যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কার স্বার্থে? তিনি বলেন, এই যুদ্ধকে ‘ভুল তথ্য ও বানোয়াট বর্ণনা দিয়ে’ বর্ণনা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আদৌ এখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অগ্রাধিকার কিনা। তিনি লিখেছেন, আসলে আমেরিকার জনগণের কোন স্বার্থ এই যুদ্ধে পূরণ হচ্ছে? এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। তিনি আরও প্রশ্ন করেন, নিরীহ শিশুদের হত্যা, ক্যান্সার চিকিৎসার ওষুধ তৈরির কারখানা ধ্বংস করা, অথবা একটি দেশকে ‘পাথর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ গর্ব- এসব কি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান আরও ক্ষতিগ্রস্ত করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য পূরণ করে?
পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা সঠিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বহুপাক্ষিক পারমাণবিক আলোচনার সময় ইরান দু’বার হামলার শিকার হয়েছে। প্রথমবার ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করলে, পরে যুক্তরাষ্ট্রও এতে যোগ দেয়। দ্বিতীয়বার এ বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে হামলা হয়। তিনি বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো যেমন জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনা আক্রমণ করা মানে সরাসরি ইরানের জনগণকে লক্ষ্য করা। তিনি একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর প্রভাব ইরানের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।
পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন. এসব হামলা অস্থিতিশীলতা বাড়ায়, মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষোভ তৈরি করে। এটা শক্তির প্রদর্শন নয়; বরং কৌশলগত বিভ্রান্তি এবং টেকসই সমাধান খুঁজে না পাওয়ার প্রমাণ।
এই চিঠি আসে ট্রাম্পের নতুন হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেবে বা ‘পাথর যুগে ফিরিয়ে দেবে’। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের ‘নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট’ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ইরান এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাসেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একটি ‘বর্ণনাত্মক যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিজয়ের গল্প তুলে ধরছে। আর ইরান নিজেদের আক্রমণের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছে। পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে বলেন, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং তারা আমেরিকান জনগণ বা অন্য দেশের প্রতি ‘কোনো শত্রুতা’ পোষণ করেন না। চিঠিতে পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি তার মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মিত্র ইসরাইলের প্রভাবে বা প্ররোচনায় এই যুদ্ধে জড়িয়েছে?
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে।
তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরাইলের হয়ে প্রক্সি হিসেবে এই আগ্রাসনে অংশ নিয়েছে? ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখিয়ে কি ইসরাইল ফিলিস্তিনে তাদের অপরাধ থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরাতে চাইছে? শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন,
ইসরাইল কি এখন শেষ আমেরিকান সেনা ও শেষ করদাতার ডলার পর্যন্ত ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চায়- নিজেদের অবাস্তব লক্ষ্য পূরণের জন্য?

,A R Sarker
২ মাস আগেএই চিঠি পড়ে যদি আমেরিকা বাসীর হুঁশ হয় তবে খুবই ভালো।