যশোরের ৬টি আসনের কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি

ফন্ট সাইজ:

যশোর জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো ও জেলার কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জেলায় গড়ে প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে একাধিক নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে। তবে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভোট কাস্টিংয়ের হার বেশি ছিল। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ায় জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এবং জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জেলার সকল ভোটার, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সকল সদস্যসহ ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে নির্বাচন পরবর্তীতেও এ রকম শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের ৮২৪টি কেন্দ্রে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে ভোটাররা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করেন। বিকাল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত জেলার কোনো ভোটকেন্দ্রেই উল্লেখ করার মতো কোনো অপ্রীতিকর বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল বেশি। সুশৃঙ্খল লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেখা যায়। সকাল পৌনে ৮টায় যশোর-৩ সদর আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ৩নং ওয়ার্ডের বিএড কলেজ কেন্দ্রে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল কাদের ৫নং ওয়ার্ডের খড়কী প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরে দুই প্রার্থীই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভোট প্রদানের পর প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ভোটার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে গতকাল সকাল থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অন্তত যশোর জেলার ৩৫টি ভোট কেন্দ্র? সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কঠোর মনোভাব। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেন। সশস্ত্র পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাসদস্যদের স্ট্রাইকিং টহল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করে। যশোর সদরের বালিয়াডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর স্কুল কেন্দ্র, তালবাড়িয়া স্কুল কেন্দ্র, শেখহাটি তমালতলা প্রাইমারি স্কুল, বারান্দীপাড়া শতদল স্কুল, মোল্লাপাড়া প্রাইমারি স্কুল, বিএড কলেজ কেন্দ্র, মাহামুদুর রহমান স্কুল কেন্দ্র, যশোর জিলা স্কুল কেন্দ্র, যশোর সরকারি এমএম কলেজ কেন্দ্র, মাহিদিয়া স্কুল কেন্দ্র, খালধার রোড আমিনিয়া আলীয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র, শহরের এমএসটিপি বালিকা বিদ্যালয়, হাসিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয়, উপশহর শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএন খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপশহর মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিলা রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাড়িয়া স্কুল কেন্দ্র, বিরামপুর প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র, ফতেপুর স্কুল কেন্দ্র, বালিযাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র, ভেকুটিয়া হাইস্কুল কেন্দ্র, মুক্তেশ্বরী হাইস্কুল কেন্দ্র, নারাঙ্গালী হাইস্কুল কেন্দ্র, চাড়া প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্র, ভাতুড়িয়া হাইস্কুল কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিল উৎসবের আমেজ। জেলা সদর ছাড়াও জেলার অন্যান্য আসনে ছিল একই রকম চিত্র। তবে জেলা বা উপজেলা সদরের বাইরে গ্রামাঞ্চলে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল আরও বেশি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তালবাড়িয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সুজাউল হক জানান- কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ২ হাজার ৪৮৮ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দুই ঘণ্টায় ৩৫০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা প্রায় ১৪ শতাংশ। একই রকম তথ্য জানান পরিদর্শন করা প্রায় সকল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারবৃন্দ। ভোটকেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষায় থাকা ভোটাররাও কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জেলা রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ জন, নারী ১২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২৫ জন।
জেলায় মোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণের জন্য ৮২৪টি কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষ ছিল। দায়িত্ব পালন করছেন ৮২৪ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৪ হাজার ৬৭৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ৯ হাজার ৩৫৮ জন পোলিং কর্মকর্তা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। র?্যাব-৬ জানিয়েছে, যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬টি আসনে মোট ১২টি টহল দল ও গোয়েন্দা ইউনিট কাজ করছে। এর মধ্যে যশোরের ছয়টি আসনে ১২টি এবং নড়াইলের দুইটি আসনে চারটি টহল দল দায়িত্ব পালন করছে। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ১৪ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন