গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পথে যবিপ্রবি

গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পথে যবিপ্রবি

ফন্ট সাইজ:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-নির্ভর প্রাগ্রসর বিশ্বে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে অংশীদার হওয়ার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সঙ্কটকালীন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা স্তিমিত হওয়ার উপক্রম দেখা দেয়। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪) যবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। নিয়োগ পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা প্রকাশনা ও অগ্রযাত্রার পরিবেশ গতিশীল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে সাথে নিয়ে তিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যবিপ্রবি একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এ বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, উন্নত ল্যাব ও গবেষণা সেন্টার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাবৃত্তি ও ফেলোশিপ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শুধু একাডেমিক উৎকর্ষই নয়, সামাজিক সেবা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও উদ্যোক্তা বিকাশেও যবিপ্রবি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। যবিপ্রবি এখন আর শুধু আঞ্চলিক বা জাতীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গত দেড় বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একটি সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-

শৃঙ্খলা আনয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধ: বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সকল ধরনের রাজনীতি বন্ধ করা হয়। ফলে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি গবেষণা ও শিক্ষার মান এগিয়ে গেছে যেটা আগে কখনও হয়নি। গত পতিত স্বৈরাচার সরকারের দোসর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন অপকর্ম ও অরাজকতার যে রাজত্ব ছিলো সেগুলো সততার সঙ্গে উত্তরণ করা হয়েছে। রাজনীতি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে পশ্চাৎপদ করার হীন চেষ্টার যে অপতৎপরতা তা নির্মূল করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় গত দেড় বছরে শিক্ষা ও গবেষণায় এক অনন্য উচ্চতায় আরোহণ করেছে।


ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি: রাজনীতি বন্ধ করার পর শিক্ষার্থীদের লিডারশিপ ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রম আরও বৃদ্ধিকরণে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ১৩টি ক্লাবকে অনুমোদন দেয়া হয়। যবিপ্রবিতে গত দেড় বছরে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সেবা এবং গবেষণার পরিবেশ বৃদ্ধিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণামুখী করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড, ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও শিক্ষাবৃত্তি ও রিসার্চ ফেলোশিপ চালু, শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা চালু, ইনোভেশন স্টার্টআপ সেন্টার প্রতিষ্ঠা, প্রতিবছর অনুষদভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ও দুই বছর অন্তর প্রতিটি বিভাগভিত্তিক ন্যাশনাল কনফারেন্স চালু করা হয়েছে। দেশ ও বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ, গবেষক নিয়ে এই কনফারেন্স আয়োজন করা হয়। এতে একই ছাতার নিচে থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আদান-প্রদানের মাধ্যমে নতুন এক দ্বার উন্মোচন হয়েছে। যা দেশ তথা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও প্রশংনীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবিক গুণাবলীর বিকাশ, ভাষাগত দক্ষতা অর্জন এবং কারিগরি ও প্রায়োগিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বিদ্যায়তনিক জ্ঞান ও বাস্তব জীবনের প্রকৃত চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যবিপ্রবিতে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে Center for Training and Skill Development (CTSD বা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র)। শিক্ষার্থীদের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের অধীনে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে সামগ্রিক মানোন্নয়নে ‘তুমিই পারবে’, ‘আচরণেই আত্মপরিচয়’ এবং ‘তোমার পাশে সবসময়’ শীর্ষক তিনটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রদান, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যক্তিক পরামর্শ, শ্রেণিকক্ষে আচরণগত সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানা রকম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন হলগুলো চালু করা করা হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। শতভাগ আবাসিক সুবিধা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভূমি অধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপি জমা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খাবারের মানবৃদ্ধির লক্ষ্যে হলগুলোর ডাইনিং আধুনিকায়ন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু, যানবাহন সুবিধা বৃদ্ধিকরণ, গবেষণা ও শিক্ষার মান বাড়ানো জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবা চালু, সকল ধরনের ফিস প্রদানে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা চালুকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফটগুলো চালুকরণ, রাস্তাগুলো সংস্কারসহ নানা ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান।
এছাড়াও নিরাপদ ও সুন্দর একটি ক্যাম্পাস উপহার দেয়ার লক্ষ্যে র‌্যাগিং-এ জিরো টলারেন্স নীতি, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, লাইটিং এর পরিমাণ বৃদ্ধিসহ নানাবিধ কার্যক্রম করে যাচ্ছে যবিপ্রবি প্রশাসন।
বিশ্বর‌্যাংকিং-এ যবিপ্রবির অদম্য অগ্রযাত্রা: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মধ্যেই গবেষণা ও শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিমধ্যে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রতিপালনে অসামান্য অবদানের জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী Times Higher Education (THE) কর্তৃক ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২৫’-এ যৌথভাবে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ র‌্যাংকিং-এ বিশ্বের ৮০১ থেকে ১০০০-এর মধ্যে এবং এশিয়াতে ৪০১ থেকে ৫০০ ব্যাপ্তির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে যবিপ্রবি। এছাড়াও QS Asia University Rankings (Southern Asia) অনুযায়ী যবিপ্রবি ২০২৪ সালে ৫৫১ থেকে ৬০০ এবং ২০২৫ সালে ৬০১ থেকে ৬২০ ব্যাপ্তির মধ্যে অবস্থান করে। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও গবেষণাপত্র প্রকাশনায় অনেক প্রবীণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেও ছাড়িয়ে গেছে যবিপ্রবি। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং-২০২৬ এ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দেশে শীর্ষ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। বিশ্ব র‌্যাংকিং এ আরও এগিয়ে যেতে গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনেকগুলি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যবিপ্রবি। এরমধ্যে গবেষণা প্রকাশনা প্রকাশে আরও উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রকাশনা ভাতা। চালু করা হয়েছে অ্যাক্রিডিটেশন রিসার্চ সেল। এই সেলের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানকারী সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রস্তুত ও উন্নত করা। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (BAC) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতিমালা অনুসরণে সহায়তা করবে অ্যাক্রেডিটেশন রিসার্চ সেল।


এ সেলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উন্নতমানের শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গইে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ল্যাবে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। ল্যাবগুলোতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে গবেষণার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণাগার উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের গবেষণা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্রাকিশওয়াটার সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কোস্টাল অ্যান্ড ব্রাকিশওয়াটার সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘হায়ার এজুকেশন অ্যাক্সেলারেশন অ্যান্ড টেকনোলজি’ বা হিট প্রজেক্টের আওতায় ২০২৫ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বিভিন্ন অনুষদের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাঁচটি হিট প্রজেক্ট একটি বড় অর্জন। এছাড়াও বিশ্ব র‌্যাংকিং এ আরও এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ভিজিটিং প্রফেসর বৃদ্ধি, দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্মাক্ষরের কাজ দৃশ্যমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগামীতে বিশ্ব র‌্যাংকিং এ যবিপ্রবি এক অনন্য উচ্চতায় জায়গা করে নেবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু গবেষণা ও শিক্ষায় নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যশোর অঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ২৪/৭ মেডিকেল সেবা চালু ও জরুরি সেবা চালুর পাশাপাশি আশেপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য মুসকিউলোস্কেলেটাল, নিউরোলজিক্যাল, পেডিয়াট্রিক এবং মুসকিউলোস্কেলেটাল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ল্যাবরেটরিতে বহিঃবিভাগীয় সেবার মাধ্যমে কমিউনিটিকে সেবা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সহজে ও স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে স্থাপন করা হচ্ছে মলিকুলার রিসার্চ এন্ড ডায়গনস্টিক ল্যাব (Molecular Research and Diagnostic Lab)। এ ল্যাবের মাধ্যমে এ এলাকার জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে molecular diagnostic, infectious disease testing, cancer biomarkers Ges iæwUb clinical chemistry সেবা প্রদান করা হবে। এই ল্যাবটি চালু হলে এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে টেস্ট করতে পারবেন, যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ স্বল্প খরচে টেস্ট ও গবেষণা করতে পারবেন।
এছাড়া গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন আপগ্রেডেশন নীতিমালা প্রণয়ন ও সকল ধরনের নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জুলাই পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অগ্রযাত্রা নিয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সংকটকালীন সময়ে সরকার আমাকে এই নবীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরু দায়িত্ব প্রদান করেন। এখানে এসে দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে আমাকে বেশ সময় ব্যয় করতে হয়েছে। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণায় আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন করার জন্য আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, উন্নত ল্যাব ও গবেষণা সেন্টার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাবৃত্তি ও ফেলোশিপ প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু একাডেমিক উৎকর্ষই নয়, সামাজিক সেবা, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও উদ্যোক্তা বিকাশেও যবিপ্রবি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। যবিপ্রবি এখন আর শুধু আঞ্চলিক বা জাতীয় প্রতিষ্ঠান নয় বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে একটি সম্ভাবনাময় ও প্রতিশ্রুতিশীল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। পরিবর্তনের প্রত্যয়ে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যবিপ্রবির এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন