সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (এডব্লিউএসিএস) বিমান ধ্বংস হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি সম্পদটি অরক্ষিত ছিল এবং কীভাবে ইরান সরাসরি এমন হামলা চালাতে সক্ষম হলো। উল্লেখ্য, ওই এক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই বিমানটি ছিল মোট ১৬টি কার্যকর ই-৩ বিমানের একটি। ১৯৬০-এর দশকে উৎপাদন শুরু হওয়া এই বিমানগুলোতে অত্যাধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথের হুমকি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এটি যোগাযোগ, সেনা চলাচল, সরঞ্জাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।
২৭ শে মার্চ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে পার্ক করা অবস্থায় এই বিমানটি ধ্বংস হয় ইরানের আঘাতে। এই হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলা চললেও ইরান এখনও ওই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটির লেজের কাছে থাকা রাডার ডোমে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে, যা অত্যন্ত নির্ভুল হামলার ইঙ্গিত দেয়। এই হামলায় মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে হামলার আগে একটি রুশ গুপ্তচর উপগ্রহ তিনবার ওই ঘাঁটির ছবি তুলেছিল২০, ২৩ এবং ২৫ মার্চ। তিনি বলেন,
একবার ছবি তুললে বোঝা যায় তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। দ্বিতীয়বার মানে এটি অনুশীলনের মতো। তৃতীয়বার মানে এক বা দুই দিনের মধ্যেই হামলা হবে। এর আগে এমন খবরও আসে যে মস্কো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবস্থানের তথ্য ইরানকে দিচ্ছে, যা রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ অস্বীকার করেন।
প্রযুক্তিগত গুরুত্ব ও দুর্বলতা
এই ই-৩ বিমানটি ছিল সৌদি ঘাঁটিতে মোতায়েন করা ছয়টির একটি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরোনো বিমানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যায় ভুগছে। ২০২৪ সালে মার্কিন বিমানবাহিনীর ই-৩ বিমানের কার্যক্ষমতার হার ছিল প্রায় ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ অর্ধেকের একটু বেশি বিমানই মিশন পরিচালনায় সক্ষম ছিল। ই-৩ একসঙ্গে প্রায় ৬০০টি লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ফাইটার পাইলটদের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে কাজ করে। মার্কিন এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের মিচেল ইনস্টিটিউটের গবেষণা পরিচালক এবং সাবেক এফ-১৬ পাইলট হেদার পেনি বলেন, এই ই-৩ হারানো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ আকাশসীমা সমন্বয়, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সামগ্রিক যুদ্ধ পরিচালনায় এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের কৌশলগত পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা কমে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুদ্ধের শুরুতে উচ্চমাত্রার হামলার পর ইরান এখন তার সামরিক সম্পদ সংরক্ষণ করে কৌশল বদলাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান শক্তির গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক অবকাঠামো, যেমন রাডার সিস্টেম ও সহায়ক বিমান লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রাথমিক আকাশ নিয়ন্ত্রণের সাফল্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সুনাগরিক
২ মাস আগে"এই বিমানগুলোতে অত্যাধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথের হুমকি শনাক্ত করতে পারে। পাশাপাশি এটি যোগাযোগ, সেনা চলাচল, সরঞ্জাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।"
- কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারেনি। কি নির্মম পরিহাস! হায়রে নিয়তি! হায়রে কপাল !