ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ন্যাটোর সদস্যপদ ‘পুনর্বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধে ন্যাটো ও ইউরোপিয়ান মিত্রদের পরীক্ষা নিয়ে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার ডাকে সাড়া দেয়নি তারা। বেশির ভাগ মিত্র জানিয়ে দিয়েছে- ইরানে যুদ্ধ আমাদের যুদ্ধ নয়। এ জন্য ওই যুদ্ধে আমরা জড়িয়ে পড়বো না। তবে কূটনৈতিকভাবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লিয়াজোঁ রাখার চেষ্টা করেছে। তাতে কোনো কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। ট্রাম্প তাদেরকে ‘ভিরু’ বা কাপুরুষ বলে অভিহিত করেছেন। ফলে এসব মিত্রের ওপর তার ক্ষোভ প্রকাশ্য। এ জন্য তার দেশ ন্যাটো থেকে বেরিয়েও যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। অনলাইন টেলিগ্রাফ এ খবর দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, এই জোটটি যেন ‘একপাক্ষিক ব্যবস্থা’তে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর আমাদের এই সম্পর্কটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
উল্লেখ্য, বৃটেন ও ফ্রান্সসহ ন্যাটোর কয়েকটি দেশ হোয়াইট হাউসের অনুরোধ সত্ত্বেও ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। রুবিও বলেন, যদি আমরা ইউরোপের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারই করতে না পারি, তাহলে আমরা ন্যাটোতে কেন আছি? এই প্রশ্নটা তুলতেই হবে। তিনি আরও বলেন, যদি ন্যাটো শুধু তখনই কাজ করে, যখন ইউরোপ আক্রান্ত হয় এবং আমরা তাদের রক্ষা করি, কিন্তু আমাদের প্রয়োজনের সময় তারা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেয়, তাহলে এটা ভালো কোনো ব্যবস্থা নয়। এতে যুক্ত থাকা কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের অবনতি
হোয়াইট হাউস ও ইউরোপের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার ডনাল্ড ট্রাম্প বৃটেনকে বলেন, ‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো’। ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে ‘ভীরু’ বলেও অভিহিত করেছেন। দাবি করেছেন, ন্যাটো জোট একটি ‘কাগুজে বাঘ’।
ট্রাম্পের ভাষণ
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এতে তিনি ইরান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেবেন।

Naaz Islam
২ মাস আগেট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা ইউরোপের দেশগুলো ভুলে নাই!!