তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হলেও দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফলে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যত নিয়ে ফারাক স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মনে হয়। কারণ, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার দেশ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে এবং ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে’ দেবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি তাদের শত্রুরা নিশ্চিত করে যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে না, তাহলে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। তবে কোনো কোনো মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে বা কোনো চুক্তি করার ক্ষেত্রে ইরান কোনো শর্ত মেনে নেবে না। এই পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা বন্ধ করতে পারে। এর জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাধ্যতামূলক নয়। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই (যুদ্ধ থেকে) বের হয়ে যাব। দুই সপ্তাহের মধ্যে, হয়তো দুই সপ্তাহ, হয়তো তিন।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি জরুরি নয়। তিনি বলেন, ইরানকে আমার সঙ্গে কোনো চুক্তি করতেই হবে না। না, তাদের চুক্তি করতে হবে না।
এর আগে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার যুদ্ধের সময় বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। আবার কখনো আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন। আসলে তিনি কখন কি বলছেন তা বোঝা মুশকিল। তিনি এর আগে ইরানকে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দফাগুলো ছিল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়া। তবে মঙ্গলবার তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খোলা রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং যেসব দেশ এর ওপর নির্ভরশীল তাদের। তিনি বলেন, এটা (উন্মুক্ত) করার কোনো কারণ আমাদের নেই। উল্লেখ্য, এর আগের দিন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ইঙ্গিত দেন যে, ইরান যুদ্ধের খরচ ইরানের প্রতিবেশী বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোকে দেয়ার চাপ দেবেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের অবস্থানের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের হতাশা। তারা যুদ্ধ প্রচেষ্টায় আরও বেশি সহায়তা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এর আগে তিনি বৃটেনসহ ইউরোপীয় মিত্রদের বলেছিলেন, নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো।
ইসরাইলের যুদ্ধ পরিকল্পনা
ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিপরীত মন্তব্য করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে এবং ‘সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে’ দেবে। ইহুদিদের উৎসব পাসওভারের আগের দিন দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, এই অভিযান শেষ হয়নি। আমরা সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে থাকব। তিনি আরও বলেন, আমাদের পদক্ষেপ নিতে হয়েছে এবং আমরা তা নিয়েছি। আমরা আমাদের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চেহারাই বদলে দিয়েছি। তিনি দাবি করেন, চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও ইসরাইল একটি ‘আঞ্চলিক শক্তি’ হিসেবে আরও শক্তিশালী হয়েছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
২৮ ফেব্রুয়ারি ডনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন এবং এর ফলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলার ঢেউ শুরু হয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর হামলা চালাতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে নেতানিয়াহুর বড় ভূমিকা ছিল। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ভর্ৎসনা করেন। অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের আগে বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) প্রেসিডেন্টকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন যে বিষয়টি সহজ হবে এবং শাসন পরিবর্তন খুব সম্ভবÑযা বাস্তবে এতটা সহজ ছিল না। ভাইস প্রেসিডেন্ট বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝেছিলেন।
