নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিলেন ১২০ বছরের তৈয়বজান

পছন্দের মানুষরে ভোট দিছি

নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিলেন ১২০ বছরের তৈয়বজান

ফন্ট সাইজ:

বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, দৃষ্টিও ঝাপসা। কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষার অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে শারীরিক অক্ষমতা। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে দুই নাতির কাঁধে চড়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে এসেছেন ১২০ বছর বয়সী বৃদ্ধা তৈয়বজান। গতকাল সকালে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। ভোট প্রদান শেষে তৈয়বজান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, নিজে চলাফেরা করতে পারি না, তাও আইছি। নিজ হাতে পছন্দের মানুষরে ভোট দিছি, খুব ভালো লাগতাছে। একই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা পূর্বধারা গ্রামের ভোটার আকিবুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৭ বছর পর এবার তিনি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সরাসরি ভোট দিতে পেরেছেন। এই কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ধারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার মুহাম্মদ মোজাহারুল হক জানান, ভোটের প্রথম এক ঘণ্টায় প্রায় ২০০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেন্দ্রটিতে নিচতলায় নারী এবং দোতলায় পুরুষ ভোটারদের জন্য বুথ রাখা হয়েছে। সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে অনেককেই ক্র্যাচে ভর দিয়ে ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে। ভোট চলাকালীন কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। তিনি নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে কিছু ভোটার কেন্দ্রে বাড়তি সময় অবস্থান করছেন- এমন খবর শুনে তিনি পরিদর্শনে এলেও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কোনো অনিয়ম সেখানে ঘটেনি। এদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স জানান, ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং অ্যাপে তথ্য প্রদর্শিত হওয়া সত্ত্বেও অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের বলা হচ্ছে তালিকায় নাম নেই, যা অপ্রত্যাশিত বলে তিনি দাবি করেন। হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার এই আসনে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।