১৭ বছর পর ভোটের ক্ষুধা মিটেছে নারী ভোটারদের

১৭ বছর পর ভোটের ক্ষুধা মিটেছে নারী ভোটারদের

ফন্ট সাইজ:

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড ৪৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র। ভোট শুরুর আধাঘণ্টা আগে থেকেই এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটের লাইনে নারী- পুরুষের সরব উপস্থিতি। যা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ছিল না। সকাল সাড়ে ৭টায় সপরিবারে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খান রিতা। নিজের কেন্দ্রে তিনি ১৭ বছর পর ভোট দিয়েছেন। তিনি ভোটার উপস্থিতি দেখে মুগ্ধ হন। সরজমিন মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের মনোভাব জানতে চাইলে, বিগত দিনে ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ ঝাড়লেন অনেকে। আবার দীর্ঘদিন পর ভোট দেয়ার আনন্দে অনেকেই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠেন। বিশেষ করে প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তার মধ্যে নারীরা এই আসনে প্রথমবারের মতো একজন জনপ্রিয় নারী প্রার্থী পেয়েছেন। যার কারণে নারী ভোটারদের আগ্রহ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। সদর উপজেলার গিলন্ড গ্রামের সকিনা বেগম বলেন, ‘এতদিন ভোট দিবার পারি নাই। আলহামদুলিল্লাহ ধানের শীষে ভোট দিয়ে দীর্ঘদিন পর শান্তি পেলাম।’ গৃহিণী জমিলা বেগম বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিলাম কিন্তু ভোট দিতে দেয়নি। দীর্ঘদিন পর এবার ভোট দেয়ার সুযোগ পাইছি।’ এলাকার আরেক গৃহিণী বিমলা বেগম বলেন, ‘এক বুক কষ্ট নিয়ে এতদিন পর স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলাম। এভাবেই যেন প্রত্যেকটা নির্বাচনে ভোট দিতে পারি। আরেকটি খুশির দিক হচ্ছে আমার আসনে একজন নারী প্রার্থী পেয়েছি।’ উপজেলার নতুন বসতি বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, ভোটারদের মধ্যে উৎসব আর উদ্দীপনা। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ পুরুষদের চাইতে অনেক বেশি। দিঘি ইউনিয়নের নতুন বসতি এলাকার সানজিদা খানম মেরি বলেন-‘১৭ বছর পর মনে হচ্ছে আমরা স্বাধীন হইছি। ভোট দিতে না পারার কষ্ট বলে বোঝানো যাবে না। আজ শান্ত এবং সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে পারলাম। ঈদের চাইতেও বেশি আনন্দ মনে হচ্ছে।’ সুইটি সুলতানা বলেন, ‘বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটের কোনো পরিবেশ ছিল না। একতরফা নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে একটি দল ক্ষমতায় ছিল। দীর্ঘদিন পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের ভোট দিতে পেরে নিজেকে স্বাধীন নাগরিক মনে হচ্ছে।’ ফরিদা পারভিন বলেন, ‘১৭ বছর নীল নকশার নির্বাচনে নিজেকে ভোটের সাক্ষী করে রাখিনি। আজ মন খুলে ভোট দিলাম। আমি নারী হিসেবে পছন্দের প্রার্থীও নারী।’ নতুন ভোটার চন্দনা হালদার বলেন, ‘এবার নতুন ভোটার হয়েছি। আনন্দমুখর পরিবেশে জীবনের প্রথম ভোট দিলাম।’ বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলার শুশুণ্ডা খরসতাই ১৮ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল দিনশেষে সেখানেও নারী ভোটারদের ঢল। এখানকার নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বেশির ভাগ নারী ভোটাররাই দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। সেই ভোটের ক্ষুধা নিবারণের জন্যই তারা ছুটে এসেছেন ভোটকেন্দ্রে। প্রায় সবার মুখেই ১৭ বছর ভোট না দেয়ার ক্ষোভ। এলাকার গৃহিণী শাকিলা বেগম বলেন, ‘১৫ বছর আগে ভোটার হলেও ভোটের স্বাদ কি আমি বুঝিনি। শুধু আমি নই, আমার এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এতদিন ভোট দিতে পারেনি। আজকে সেই ভোট দেয়ার বাসনা পূরণ হলো। এই ভোটকেন্দ্রে আজকে যেসব মহিলাকে দেখা যাচ্ছে তারা ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। তাদের ভোট ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। আজকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কোনো বিরক্তবোধ করেনি। নতুন বাংলাদেশের নতুন ভোটের সাক্ষী হয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রয়োগ করেছেন। এদিকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খান রিতা তার নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী মইনুল ইসলাম, বড় ছেলে রাশিদ মাইমুনুল ইসলাম ও মেজ ছেলে রাশিদ সামিউল ইসলাম। আফরোজা খান রিতা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটা উৎসবমুখর পরিবেশে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করেছে। আমি শতভাগ বিশ্বাস করি ভোটাররা ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করে ভোট প্রদান করেছেন।




কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন