ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যে ব্যয় হচ্ছে তা আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপাতে চাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই মাস খানেক ধরে চলা এই যুদ্ধে কয়েক হাজার বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে যুক্তিরাষ্ট্র। এরমধ্যে ইরানের হামলায় বিভিন্ন সামরিক যান ক্ষয়ক্ষতির ব্যয়ও রয়েছে। এতে নিজ দেশে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। এখন তিনি আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে এই যুদ্ধের ব্যয় চাপানোর কথা ভাবছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এ বিষয়ে আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে অনুরোধ জানাতে পারেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
এতে বলা হয়, ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, অতীতের মতো এবারও আরব মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধের খরচ বহনে আহ্বান জানাতে পারেন ট্রাম্প। ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা যেভাবে অর্থ সহায়তা করেছিল, সেই দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যা প্রেসিডেন্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে পারেন।
উল্লেখ্য, উপসাগরীয় যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরাকের কুয়েত আক্রমণ প্রতিহত করতে অভিযান চালায়। সে সময় জার্মানি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যেখানে আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক মিত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে কম।
এদিকে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মুখপাত্র সেন হ্যানিটি প্রস্তাব দিয়েছেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে তেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় পরিশোধ করতে বাধ্য করা উচিত। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা আগে আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। সংঘাতের জেরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ এর হিসাব বলছে, ১২ দিনের মাথায় এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারে, যা বর্তমানে আরও অনেক বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস এই সামরিক অভিযানের ব্যয় মেটাতে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন চেয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর তেলের দাম বেড়ে গেছে।

Hori
২ মাস আগেচোরে আমার গরু চুরি করে জোর করে আমার কাছেই বিক্রি করতে চায়