মঞ্চে ফিরছেন সেলিন ডিওন

মঞ্চে ফিরছেন সেলিন ডিওন

ফন্ট সাইজ:

দুর্লভ স্নায়ুবিক রোগে আক্রান্ত ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ গানের বিখ্যাত গায়িকা সেলিন ডিওন। এ জন্য দীর্ঘদিন মঞ্চ থেকে দূরে তিনি। কিন্তু ভক্তদের যে ভালবাসা তিনি পেয়েছেন তা তাকে আবারও গানের মঞ্চে ফিরিয়ে নিয়ে আসছে। এমনই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি জানিয়েছেন, প্যারিসে ১০টি কনসার্টে অংশ নেবেন।

সোমবার নিজের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে দেয়া ঘোষণায় তিনি জানান, এই শোগুলো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে হবে। নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এ বছর আমি আমার জীবনের সেরা জন্মদিনের উপহার পাচ্ছি।’ সোমবার ৫৮ বছরে পা দেয়া এই গায়িকা বলেন, তিনি এখন ‘ভালো’ এবং ‘শক্তিশালী’ অনুভব করছেন। এমনকি ভিডিওতে তাকে কিছুটা নাচতেও দেখা গেছে। তিনি বলেন, আমি খুব উদ্বেলিত। স্বাভাবিকভাবেই একটু নার্ভাসও। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ আমি আপনাদের সবার প্রতি। আমি আপনাদের ভালোবাসি, খুব শিগগিরই দেখা হবে!
প্যারিস শহরের বিভিন্ন স্থানে তার গানগুলোর শিরোনামসহ পোস্টার দেখা যেতে থাকে।

ফলে গত সপ্তাহ থেকেই তার ফিরে আসার গুঞ্জন শুরু হয়। কানাডার সংবাদমাধ্যম লা প্রেস জানায়, প্যারিস লা দেফঁস অ্যারেনায় তিনি একটি বিশেষ কনসার্ট সিরিজ করবেন। ওই অ্যারেনায় প্রায় ৪০ হাজার দর্শক বসতে পারেন। এরপর ডিওন তার ইনস্টাগ্রামে প্যারিসে কাটানো বিভিন্ন সময়ের ছবি পোস্ট করে ভক্তদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন। এই ঘোষণাকে গায়িকার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন, যা ২০২৪ সালের একটি ডকুমেন্টারিতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে।

২০২২ সালে গ্র্যামি পুরস্কার জয়ী এই শিল্পী জানান, তিনি ‘স্টিফ পারসন সিনড্রোম’ নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত এবং তার ইউরোপীয় সফরের কয়েকটি তারিখ স্থগিত করেন। তিনি তখন বলেন, আমরা এখনও এই বিরল রোগ সম্পর্কে শিখছি। তবে এখন বুঝতে পারছি, আমার শরীরে যে খিঁচুনি হচ্ছিল তার কারণ এটিই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই খিঁচুনি আমার দৈনন্দিন জীবনের সবকিছুকে প্রভাবিত করে। কখনো হাঁটতে সমস্যা হয়, আবার কখনো আমার কণ্ঠস্বর আগের মতো ব্যবহার করতে পারি না।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড স্ট্রোক-এর মতে, এটি একটি বিরল এবং ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা স্নায়ুবিক রোগ, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে প্রভাবিত করে। পরবর্তী বছর তিনি তার ‘কারেজ ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ বাতিল করেন। সে সময় ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছিল, তিনি হয়তো আর কখনো ট্যুরে ফিরতে পারবেন না।

তবে ডিওন হাল ছাড়েননি। ২০২৪ সালের ‘আই অ্যাম: সেলিন ডিওন’ ডকুমেন্টারিতে তিনি চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াই তুলে ধরেন। ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ খ্যাত এই গায়িকাকে সেখানে দেখা যায় শরীরজুড়ে ব্যথা থাকা সত্ত্বেও কণ্ঠস্বর ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছেন। একই সঙ্গে তিনি অনুভব করছিলেন, যেন তিনি তার ভক্তদের হতাশ করছেন। ডকুমেন্টারির এক পর্যায়ে তিনি বলেন, মানুষগুলোকে আমি খুব মিস করি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন