শান্তি আলোচনার আড়ালে ইরানে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েকদিনে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলো এমন সব রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি সংলাপ চলছে, তখন এমন প্রস্তুতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। যুদ্ধের ময়দানে সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। ইরানও আলোচনার ওপর ভর করে বসে নেই। তারাও স্থল আগ্রাসন হলে তার সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ মার্কিন সেনাদের আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি ওয়াশিংটনকে শান্তি আলোচনা নিয়ে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ করে বলেন, একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ।
পেন্টাগন ইতিমধ্যে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য আগ্রাসনের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খার্গ দ্বীপে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় আঘাত। গালিবাফ বলেন, শত্রু প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা দেয়, আর গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করে। তারা জানে না, আমাদের লোকেরা মাটিতে মার্কিন সেনাদের আগমনের অপেক্ষায় আছে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার জন্য এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চিরতরে শাস্তি দেয়ার জন্য। আমাদের হামলা চলছে। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত। আমাদের দৃঢ়তা ও ঈমান আরও বেড়েছে। আমরা শত্রুর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত এবং তাদের সেনাবাহিনীতে আতঙ্কের প্রভাব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।
উল্লেখ্য, প্রায় ২২০০ সেনা নিয়ে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে যুদ্ধ শেষ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করেন। তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা সোমবারের শান্তি আলোচনার আগে সেখানে বৈঠক করেন। তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া ও সামুদ্রিক চলাচল পুনর্বহালের প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত এই আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা অনুপস্থিত। তারা সরাসরি আলোচনায় কবে যোগ দেবেন তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন দলের নেতৃত্ব দেয়ার কথা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্যক্তিত্বদের একজন।
পাকিস্তানের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সুয়েজ খালের মতো ফি কাঠামোসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রোববারের বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে। অন্য সূত্রগুলো বলেছে তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরব একটি যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন করে এই জলপথে তেল পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং পাকিস্তানকেও এতে অংশ নিতে বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। হোয়াইট হাউস কখনো যুদ্ধ কমানোর, আবার কখনো তা বাড়ানোর মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইসলামাবাদে বৈঠকে অংশ নেয়া দেশগুলো সংঘাতের সমাধান খুঁজছে। তিনি তুর্কি সংবাদমাধ্যম এ হাবারকে বলেন, এ যুদ্ধে আলোচনার অগ্রগতি কোথায় যাচ্ছে এবং এই চার দেশ পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে ও কী করা যেতে পারে- সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে শনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী যুদ্ধে যোগ দেয় এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজে হামলার হুমকি দেয়। হরমুজ প্রণালি খুলতে হলে উপকূল জুড়ে স্থাপন করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি খুঁজে ধ্বংস করতে হবে, যেগুলো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারে। সেখানে ইরানের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত হয়। সেটা দখলের উদ্দেশ্য হলো তেহরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন কেটে দেয়া এবং আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করা। মার্কিন বাহিনীর এই ইউনিটের সক্ষমতা রয়েছে আকাশপথে প্যারাশুটে করে দ্বীপ দখল করার এবং তারা প্রায় ৯৯৫ মাইল দূরত্বে জাহাজ থেকে উপকূলে হামলার মহড়া দিয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানায়, এই অভিযান শেষ করতে মাস নয়, কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
ইরানের স্পিকার বললেন
হামলা চলছে আমাদের দৃঢ়তা ও ঈমান আরও বেড়েছে
মানবজমিন ডেস্ক
৩১ মার্চ (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
