মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই মনোনয়ন দেয়া হয় তাকে। এর আগে সাধারণ নির্বাচন হয় দেশটিতে। তাতে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। ফলে মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ পার্লামেন্টে তার সঙ্গে আরও দু’জন অনুগত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাদের জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর কারণে অনেক পশ্চিমা দেশ ইতিমধ্যে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এরপর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। দেশের বড় অংশ এখনো সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনকে জান্তা সরকার শান্তির পথে এগোনোর একটি ধাপ হিসেবে প্রচার করে।
কিন্তু এই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্রহসন হিসেবে দেখা হয়। অনেক জনপ্রিয় দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয়নি এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের বড় অংশ ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল। তবে সরকার এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে যে নির্বাচনটি ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু। তারপরও মিয়ানমারের নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্য মিন অং হ্লাইংয়ের প্রতি অনুগত- হোক তারা সেনাবাহিনীর সক্রিয় কর্মকর্তা (যারা সংবিধান অনুযায়ী এক-চতুর্থাংশ আসন পায়), অথবা সামরিক দলের হয়ে নির্বাচিত প্রার্থী। এ সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করবে। তবে এটা এখন প্রায় নিশ্চিত যে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইংই এই পদে বসবেন। জানা যায়, মিন অং হ্লাইং অনেক দিন ধরেই প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে সামরিক দলের খারাপ ফলাফলের পর প্রেসিডেন্ট হতে না পারার আশঙ্কাই অভ্যুত্থানের পেছনে বড় কারণ ছিল, যা অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
তবে এই পদে গেলে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হলে মিন অং হ্লাইংকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব ছাড়তে হবে। এতে ঝুঁকি আছে। কারণ অনেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা তার নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট। তিনি ইতিমধ্যে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কঠোর অনুগত জেনারেল ইয়ে উইন ও’কে বেছে নিয়েছেন। তিনি ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে কঠোর আচরণের জন্য পরিচিত। তবুও ঝুঁকি রয়ে গেছে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে মিন অং হ্লাইং তার কিছু ক্ষমতা হারাতে পারেন। তিনি একটি নতুন পরামর্শদাতা পরিষদও গঠন করেছেন, যার প্রধান থাকবেন তিনি নিজেই।
এর মাধ্যমে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রভাব বজায় থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, নতুন প্রশাসন মূলত বর্তমান সামরিক জান্তারই সম্প্রসারিত রূপ হবে, শুধু বেসামরিক পোশাকে। মিন অং হ্লাইং বা তার সহযোগীদের কাছ থেকে এখনো এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে তারা পাঁচ বছর আগে ক্ষমতা দখলের বিরোধীদের ওপর চালানো সহিংস দমননীতি বন্ধ করবেন।

Zakiul Islam
২ মাস আগেবার্মা এবং পাকিস্তান, এই দুটি দেশকে ধ্বংস করল এই সামরিক জান্তারা ।