ট্রাম্পের টার্গেট ইরানি তেল, খার্গ দ্বীপ দখল

এনডিটিভির রিপোর্ট

ট্রাম্পের টার্গেট ইরানি তেল, খার্গ দ্বীপ দখল

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেল দখল করে নিয়ে নিতে পারেন। তেহরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপও দখল করতে পারেন। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার ‘প্রথম পছন্দ হবে ইরানের তেল নিয়ে নেয়া।’ তিনি ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযানের সঙ্গে এ বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তুলনা করেন। ওই অভিযানে লাতিন আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির ওয়াশিংটন তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো ইরানের তেল নিয়ে নেয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা মানুষ আছে যারা বলে, ‘আপনি এটা করছেন কেন?’ তারা বোকা মানুষ।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, এর অর্থ খার্গ দ্বীপ দখলও হতে পারে। ‘হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ নেব, হয়তো নেব না। আমাদের অনেক বিকল্প আছে। তবে এর মানে হলো আমাদের কিছুদিন সেখানে থাকতে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়িয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলে যে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ১০,০০০ সেনা ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। গত সপ্তাহে প্রায় ৩৫০০ সেনা সেখানে পৌঁছেছে। আরও ২২০০ মেরিনসহ ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনা পথে রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানের এই প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র দখলের যেকোনো স্থল অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত করার বদলে দীর্ঘায়িত করতে পারে। খার্গ দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে ১৬ মাইল (২৬ কিলোমিটার) দূরে উপসাগরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এবং হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল (৪৮৩ কিলোমিটার) উত্তর-পশ্চিমে। এই দ্বীপ দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়। এটি দখল করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে এবং তেহরানের অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তেহরান পাল্টা হিসেবে সমুদ্রপথে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। যার মধ্যে উপকূল থেকে ভাসমান মাইন স্থাপনও থাকতে পারে। ফলে অঞ্চলটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, যেখানে ইতিমধ্যে যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।
তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানি ‘দূতদের’ মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচক অগ্রগতি করছে। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে দ্রুত কোনো চুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বলেননি। ট্রাম্প ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে ইরান যদি শর্ত না মানে, তাহলে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, আমাদের এখনো প্রায় ৩০০০ লক্ষ্যবস্তু বাকি। আমরা ১৩০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি। আরও কয়েক হাজার বাকি আছে। একটি চুক্তি খুব দ্রুতই হতে পারে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘উপহার’ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তার মতে, এই সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে ২০ হয়েছে। যদিও এটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি। তিনি বলেন, তারা আমাদের ১০টা দিয়েছে। এখন ২০টা দিচ্ছে এবং এই ২০টা ইতিমধ্যেই চলা শুরু করেছে, সরাসরি প্রণালির মাঝ দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, যাকে মার্কিন গণমাধ্যম ভবিষ্যৎ সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী বলছে, তিনি এই অতিরিক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রাথমিক হামলায় দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর তেহরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটছে। তিনি বলেন, এখন আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। তারা খুবই পেশাদার। ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো নিহত হয়েছেন বা গুরুতর আহত। তিনি বলেন, ‘ছেলেটি হয় মৃত, না হয় খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কোনো খবর পাইনি। সে নেই।’
তবে তেহরান দাবি করেছে, দেশের নেতৃত্ব অটুট রয়েছে এবং মোজতবা খামেনি নিরাপদ আছেন, যদিও তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন