‘নরকে স্বাগতম’ জানানোর পর তেহরান এবার নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, এবার তাদের টার্গেট হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়। ওদিকে ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরাইলে হামলা অব্যাহত রেখেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিরা। ইসরাইলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে হুতিরা। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। এতে বুশেহর প্রদেশে একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশে একটি পানি সরবরাহ স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের ওপর দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা বলেছে, ইসরাইল ‘আক্রমণ ও আগ্রাসন’ বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে।
ইরানে যুদ্ধের বিরুদ্ধে তেল আবিব এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বেইরুতেও মানুষ রাস্তায় নামে ইসরাইলের হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে। ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন এবং এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম জানিয়েছে, তাদের স্থাপনাতেও হামলা করেছে ইরান। ওদিকে টোকিওতে ইসরাইলি দূতাবাস চারটি সংগঠনের দেয়া একটি বিবৃতি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এসব সংগঠন পারমাণবিক বোমা হামলার বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে যুদ্ধের সমালোচনা করে।
বার্তা সংস্থা কিয়োদো জানায়, নাগাসাকি প্রিফেকচারের ডাকঘর ওই বিবৃতিটি ফেরত দেয়। কারণ দূতাবাস এটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। নাগাসাকি অ্যাটমিক বোমা সারভাইভার্স কাউন্সিলের ৮৫ বছর বয়সী প্রধান শিগেমিৎসু তানাকা বলেন, বিবৃতিটি না পড়েই ফেরত দেয়া হয়েছে। আমার মনে হয় তারা ক্রমেই সংকীর্ণমনা হয়ে উঠছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমায় হিরোশিমার পাশাপাশি নাগাসাকিও ধ্বংস হয়েছিল। ওই হামলার বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
উত্তর ইসরাইলে ঘন ঘন সতর্ক সংকেত বাজানো হচ্ছে। হিজবুল্লাহর হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এমন সতর্কতা। জর্ডানের আম্মান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রব ম্যাকব্রাইড জানান, শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত ইসরাইলে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি হয়েছে। সর্বশেষ এক ঘণ্টার মধ্যে ইরান থেকে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে। নেগেভ ও মৃত সাগর এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়, পরে জানানো হয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়। সেটিও প্রতিহত করা হয়েছে। হুতিরা এখন যুদ্ধে তৃতীয় ফ্রন্ট খুলে দেয়ায় ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষিণ দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। ফলে তাদেরকে এখন কমপক্ষে তিনটি ফ্রন্টে লড়াই বা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। একদিকে ইরান। অন্যদিকে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি। এমন ত্রিমুখী হামলায় দৃশ্যত দিশেহারা ইসরাইল। আগের রাতগুলোর মতোই বেশিরভাগ সংঘর্ষ হচ্ছে লেবানন সীমান্তে, যেখানে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে তীব্র লড়াই চলছে।
