ফের রাতের ভোটের সাক্ষী হলো সিলেট!

ফের রাতের ভোটের সাক্ষী হলো সিলেট!

ফন্ট সাইজ:

এমন ঘটনা শতাব্দিতে একবারই ঘটেছে। সেটি আর বলা যাবে না। বার বারই ঘটছে। রাতের ভোটের নজির একবার নয়, সিলেটে ঘটলো দু’বারই। রাতে কী হয়েছে কেউ জানেন না। বলা হচ্ছে- বাক্সে ব্যালট ভর্তির মহোৎসব হয়েছে সিলেটে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মধ্যরাতের আগে হঠাৎ করেই উত্তাপ সিলেটে। খবর রটে রাতেই হয়ে যাচ্ছে ভোট। সিলেট-১ আসনে তখন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ভোট বাঁচাতে ছুটেছিলেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে। ঢুকতেই পারেননি। উল্টো হয়েছেন নাজেহাল। ঠিক ৮ বছরের মাথায় এসে তাকে একই ঘটনায় রাতে বের হতে হলো বাসা থেকে। অবাক চাহনি। ব্লু-বার্ড স্কুল কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বললেন; এটা কী হচ্ছে? আওয়ামী লীগের দৃশ্যপট ফের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুক্তাদিরের ডানে বামে কয়েস-এমদাদ। দু’জন মহানগর বিএনপি’র শীর্ষ নেতা। তারাও উদ্বিগ্ন। কী হচ্ছে! দেশ কোথায় যাচ্ছে। তবু তাদের প্রাণান্তকর চেষ্টা। ব্লু-বার্ড স্কুলের ঘটনা সন্ধ্যা রাতেই। ৮ টার একটু পর। ১০-১২ জন যুবক এক সঙ্গে ঢুকে পড়েন কেন্দ্রে। দারোয়ান ফটক খুলে দেন। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে স্থানীয়দের। হয় সন্দেহ। তারা প্রতিবাদী হন। কেন্দ্র থেকে দৌড়ে পালায় ওই লোকেরা। পরে জানা যায়; আগত লোকেরা ছিলেন জামায়াত কর্মী। তারা হঠাৎ কেন কেন্দ্রে? ওই প্রশ্নে যখন তোলপাড় সিলেট নগর তখনই খবর এলো মিরাবাজার কেন্দ্রের। জামায়াত অধ্যুষিত ওই কেন্দ্র। তিন যুবক বৈঠক করছেন প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে। পরিচয় দিলেন ইলেকশন অবজারভারের। রাতেই কেন্দ্রের ভেতরে কী কাজ? সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তারা কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিলে ওই যুবকরা পালাতে থাকে। খবর পেয়ে সেখানে চলে যান সাংবাদিকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ ছড়িয়ে পড়ে সিলেটে। মানুষ বাড়তে থাকে। কয়েক’শ মানুষ সেখানে জড়ো হন। পুলিশ আসছে না। পাশেই সুবহানীঘাট ফাঁড়ি। আসতে সময় লাগে ৩-৪ মিনিট। তবুও পুলিশের দেখা নেই। ওই যুবকদের জেরা করছেন স্থানীয়রা। কোনো সদুত্তর নেই। মুখে নানা প্যাঁচানো কথা। এতে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা। রাত ১১ টায় এলো পুলিশ। আটক করে নিয়ে গেলো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলো। এ ঘটনার পর মুহূর্তেই খবর এলো আম্বরখানা কলোনি বিদ্যালয়ের ঘটনা। কয়েকজন জামায়াত কর্মী কেন্দ্রে ঢুকেছেন। তারা জাল ভোটের চেষ্টা চালাচ্ছেন বা দিচ্ছেন। এমন খবরে এলাকায় উত্তেজনা। ওই এলাকায় বাড়ি নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর। কথা হলে জানান- কোথায় কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। সবখানেই কেন্দ্রে ঢুকে গেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। জানালেন- মানুষ ঘেরাও করেছে। প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তারাও যাচ্ছে। রাতে কথা হলো এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোবাশ্বির আহমদের সঙ্গে। তিনি জানালেন- বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে ওই কেন্দ্রে ঢুকা নিয়ে উত্তেজনা চলেছিলো। এখন পরিস্থিতি শান্ত। শামীমবাদ মঈনউদ্দিন মহিলা কলেজের একটি ভিডিও ভেসে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেন্দ্রে দলে দলে ঢুকেছে লোকজন। ওরা কারা? স্থানীয়রাদের প্রশ্ন। উত্তরে অনেকেই জানালেন- তারা জামায়াত-শিবিরের কর্মী। ভেতরে কী হয়েছে বলতে পারেন না। প্রায় দুই ঘণ্টা তারা কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। পরে অবশ্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি টিম সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। মধ্যরাতের পর পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় নগর এলাকায়। রাতের ভোটের আশঙ্কা তাদের মধ্যে তীব্র হয়। প্রশাসনের ভয় উপেক্ষা করে অনেকেই নেমে আসেন রাস্তায়। রাতভর দেন কেন্দ্র পাহারা। এমন ঘটনা যখন সিলেট-১ আসনের নগর ও আশপাশ এলাকায় ঘটছিলো তখন বাইরে থেকে আসতে থাকে একের পর এক খবর। মধ্যরাতের দিকে দক্ষিণ সুরমার মহিশাস ভোট কেন্দ্রে উত্তেজনা। স্থানীয় জামায়াত আমীরের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। কী হচ্ছে ভেতরে- এমন উৎকণ্ঠায় স্থানীয়রা জড়ো হন। এ সময় তারা কেন্দ্র ঘেরাও করেন। ডাকেন পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ যায়নি। তিন ঘণ্টা ঘেরাও চলে। উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন বিএনপি’র এমপি প্রার্থী এমএ মালিক। লন্ডন প্রবাসী। এমন ভোটে তিনি অভ্যস্থ নন। হাসিনার ভোটের সময় লন্ডনে বসে মেজাজ হারিয়েছিলেন। তিনিও বের হলেন ঘরেই বাইরে। পরে অবশ্য রাত আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট দল গিয়ে ওই প্রিসাইডিং অফিসারকে নিয়ে আসেন। বালাগঞ্জে রিভারবেল্টের একটি কেন্দ্রের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। জামায়াত নেতারা জোরপূর্বক কেন্দ্রে ঢুকে পড়েন। পরে বিএনপি নেতারা গিয়ে ক্ষোভ জানান। সিলেট-৪ আসনের চারিকাটা ইউনিয়নের ভিত্রিখেল ভোট কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রে দুই সহকারী দু’জন প্রিসাইডিং অফিসার মধ্যরাতে ওয়ার্ড জামায়াতের আমীরের বাড়িতে চলে যান। সেখানে করেন বৈঠকও। এরপর খাওয়া-দাওয়াও। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রা। রাত ১২ টার দিকে জৈন্তাপুর থানার এসআই রাজন এসে তাদের থানায় নিয়ে যান। ওই এলাকার বাসিন্দা জেলা তাতীদলের সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বেলাল জানিয়েছেন- জামায়াত তার এলাকায় রাতের ভোটের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর থেকে মানুষ না ঘুমিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিয়েছে। বিচিত্র ঘটনা ঘটেছে ওই উপজেলার চিকনাগুলেও। জামায়াত প্রার্থী জয়নাল আবেদীনের পক্ষে স্থানীয় ঘাটের ছটিতে টাকা বিতরণ করছিলেন উপজেলা শ্রমিকলীগ সহ সভাপতি ও মেম্বার নজরুল ইসলাম। বিষয়টি নজরে পড়ে এলাকার মানুষের। ফেসবুকে লাইভে গিয়েই তাকে আটক করা হয়। সঙ্গে ছিলো তার সহযোগী বাদশাও। দু’জন পালাতে চান। ফের তাদের আটক করা হয়। প্রায় দুই ঘন্টা পর পুলিশ এসে টাকাসহ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। একই সময় কানাইঘাটের কয়েকটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হয়। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যামে ভাইরাল হয়েছে। রাতে কেন্দ্রে প্রবেশে বিষয়ে কথা হয় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সঙ্গে। নগরের কাজিরবাজার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি জানান- অবজারভার পরিচয়ে মিরাবাজার কেন্দ্র থেকে যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ওই তিনজনের আটক নিয়ে সকালে ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে কথা বলেছেন সিলেট-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী হাবিবুর রহমান। তিনি তাদের মুক্তির দাবি করে বলেন- রাতে কার্ড আনতে অনেক এজেন্ট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

রুহেল

৪ মাস আগে

ফাসিস্ট হাসিনার শুন্যস্থান পুরণ করতে মরিয়া জামায়াত। আর ২০১৮ এর পুলিশের ভুমিকায় আনসার।

ইলিয়াস

৪ মাস আগে

মন্তব্য করে কি লাভ হবে? এজন্যই জুলাই যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল?
২০০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছিল?
ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট বলতে এজন্যই তো শফিক সাহেবের অপছন্দ।
এজন্যই তিনি আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিয়েছিলেন ।
হায় বাংলাদেশ! হায় বাঙালি জাতি!!

A R Sarker

৪ মাস আগে

বিভ্রান্তিকর খবর। এটা রাতের ভোট প্রৃমানিত নয়। এটা হাসিনার রাতের ভোট কে হালকা করার প্রচেষ্টা।

মন্তব্য করুন