মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সপরিবার নিয়ে ভোট দিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রিতা

মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সপরিবার নিয়ে ভোট দিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রিতা

ফন্ট সাইজ:

প্রথম ভোট দিয়েছেন মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতা।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সদর উপজেলার ৪৭ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে স্বামী মইনুল ইসলাম,দুই ছেলে রাশীদ মাইমুনুল ইসলাম,রাশীদ সামিউল ইসলাম ও দুই পুত্রবধূকে নিয়ে তিনি ভোট দেন।

এছাড়া সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে জেলার ৫১৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট নেওয়া হচ্ছে। তিন আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জেলার তিন আসনের ২২৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাড়ির আশপাশ ও চরাঞ্চল মিলিয়ে ৬৭টি কেন্দ্রকে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করছেন।
কেন্দ্রটি প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল কাদের জানান, মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৩২। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭২০ নারী ভোটার ১৭১২ জন্য।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা জানিয়েছেন, ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ৯ হাজার ৬০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
ভোটার চিত্র
জেলার তিন আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ২০ হাজার ৬৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮১ জন, নারী ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯১৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।
মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৪ জন। পুরুষ ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৬২ জন, নারী ২ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। ইউনিয়ন রয়েছে ২২টি। ভোটকেন্দ্র ১৮৯টি এবং ভোটকক্ষ ৯১৯টি।৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন:
এস এ জিন্নাহ কবীর (ধানের শীষ-বিএনপি), মো. তোজাম্মেল হক তোজা (ঘোড়া-স্বতন্ত্র, বিএনপি বিদ্রোহী), আবু বক্কর সিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা-জামায়াতে ইসলামী), মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন (ট্রাক-গণ অধিকার পরিষদ), মো. খোরশেদ আলম (হাতপাখা-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আব্দুল আলীম ব্যাপারী (হরিণ-স্বতন্ত্র) ও মো. সাজাহান খান।
এই আসনের ১৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৪টি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদর উপজেলার পুটাইল ও হাটিপাড়া ইউনিয়ন)মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৭ জন। পুরুষ ২ লাখ ৩২ হাজার ৮২১ জন, নারী ২ লাখ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৪ জন। একটি পৌরসভাসহ ২৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। ভোটকেন্দ্র ১৮৫টি, ভোটকক্ষ ৮৯৮টি।
৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত (ধানের শীষ-বিএনপি), মো. সালাউদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি-খেলাফত মজলিস, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত), আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল-জাতীয় পার্টি) ও মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
এ আসনের ৫২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, যার মধ্যে ৯টি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া)
মোট ভোটার ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯১৮ জন। পুরুষ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৯৪ জন, নারী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন। একটি পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। ভোটকেন্দ্র ১৫১টি এবং ভোটকক্ষ ৭৯৭টি।
৯ জন প্রার্থী লড়ছেন এই আসনে। তারা হলেন, আফরোজা খানম রিতা (ধানের শীষ-বিএনপি), মুহাম্মদ সাঈদ নূর (রিকশা-খেলাফত মজলিস), আতাউর রহমান (ফুটবল-স্বতন্ত্র, বিএনপি (বহিস্কৃত) বিদ্রোহী, আবুল বাশার বাদশা (লাঙ্গল-জাতীয় পার্টি), মফিজুল ইসলাম খান কামাল (সূর্যমুখী ফুল-স্বতন্ত্র), মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিস (বাইসাইকেল-জেপি), সাজাহান আলী সাজু (মোটরগাড়ি-জাসদ), রফিকুল ইসলাম খান (মোটরসাইকেল-স্বতন্ত্র) ও সামসুদ্দিন (হাতপাখা-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
এ আসনের ৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৪টি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন