ন্যাটোর ওপর ক্ষোভ ট্রাম্পের

‘আগুন নিয়ে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল’

ন্যাটোর ওপর ক্ষোভ ট্রাম্পের

ফন্ট সাইজ:

দুই পারমাণবিক স্থাপনা আরাকের একটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং খোন্দাবে একটি হেভি ওয়াটার (ভারি পানি) রিয়্যাক্টর আক্রান্ত হওয়ার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তারা বলেছে, আগুন নিয়ে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল। এর পাল্টা জবাব দেয়া হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইসরাইলের এই ‘অপরাধের জন্য তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’ তিনি জানান, হামলায় ইরানের বৃহত্তম দুই ইস্পাত কারখানা খুজেস্তান স্টিল এবং মোবারাকেহ স্টিলও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তারা ‘আগুন নিয়ে খেলছে।’ রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যে, তারা পাল্টা হিসেবে ওই অঞ্চলের শিল্প স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে।

অন্যদিকে ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়ায় ‘খুবই হতাশ’ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এক ব্যবসায়িক সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি সবসময় বলেছি, ন্যাটো একটি কাগুজে বাঘ। আমরা ন্যাটোকে সাহায্য করি। কিন্তু তারা কখনোই আমাদের সাহায্য করবে না। ওদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, তিনি সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে মিশর, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত হয়েছে ১২ মার্কিন সেনা। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। রয়টার্স জানায়, এই নতুন হতাহতের সংখ্যা যোগ হওয়ায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত ৩ শতাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছে।

ন্যাটো কী?
ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর ওপর নির্ভর করতে হবে না। কারণ তার মতে এই সামরিক জোট যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেনি। তার এই মন্তব্য ন্যাটোর ভিত্তিগত ঐক্যের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এই জোটটি ৪ঠা এপ্রিল ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ছিল ১২টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশের একটি। অন্য দেশগুলো হলো কানাডা, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল এবং বৃটেন। পরবর্তীতে এই জোট ২৯টি সদস্য দেশে বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি তুরস্কও রয়েছে। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সকল সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সবাইকে তার সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে।এই অনুচ্ছেদ মাত্র একবার প্রয়োগ করা হয়েছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর ১২ সেপ্টেম্বর। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকে এবং ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ন্যাটোর প্রতি ক্রমশ বেশি সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন