ইরানের দুই পারমাণবিক স্থাপনা ও ইস্পাত কারখানায় হামলা

ইরানের দুই পারমাণবিক স্থাপনা ও ইস্পাত কারখানায় হামলা

ফন্ট সাইজ:

মুখে শান্তির কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের আরাকের একটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং খোন্দাবে একটি হেভি ওয়াটার (ভারি পানি) রিয়্যাক্টর আক্রান্ত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ১০ দিনের সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়ার একদিন পরেই এই হামলা হয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তারা এই দুই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানি সূত্র জানিয়েছে, কোথাও কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণ হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানায়, ইরান তাদের জানিয়েছে ইয়াজদ প্রদেশের শাহিদ রেজায়ী নেজাদ ইয়েলো কেক প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটিতে হামলা হয়েছে। তবে ‘স্থাপনার বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধি পায়নি।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইসরাইলের ‘অপরাধের জন্য তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’ তিনি জানান, হামলায় ইরানের বৃহত্তম দুই ইস্পাত কারখানা খুজেস্তান স্টিল এবং মোবারাকেহ স্টিলও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই হামলা ডনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।

এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যে, তারা পাল্টা হিসেবে ওই অঞ্চলের শিল্প স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারে এবং এসব কারখানায় কর্মরত বেসামরিক মানুষদের ‘অবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগ করার’ আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাঘাব ইসফাহানি এক্সে হুমকি দেন, যদি স্থল আক্রমণ হয়, তাহলে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে অবস্থিত স্যামরেফ তেল শোধনাগার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় ফুজাইরাহ তেল কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হবে।

সংকটপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘ একটি টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে এই পথ দিয়ে বাণিজ্য চলমান রাখা যায়। এদিকে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস তিনটি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই পথ তাদের ‘শত্রুদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন্দরে যাওয়া-আসার জন্য বন্ধ।
প্রস্তাবিত টাস্কফোর্সটি ইউক্রেনের ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ এবং গাজার জন্য ইউএন ২৭২০ মেকানিজমের মতো উদ্যোগের ভিত্তিতে গড়ে তোলা হবে। এর নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা। তিনি ইউএন অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক। প্যারিসে জি৭ দেশগুলোর নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্টতা চান। বৈঠকের পর রুবিও দাবি করেন, জি৭ দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর ইরানের টোল আরোপের পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে সম্মত হয়েছে।

শিপিং জার্নাল লয়েডস লিস্টের বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ৩৪টি জাহাজকে ইরান প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এগুলো লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে, যাকে তারা ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে যে শুক্রবার ভোরে ড্রোন হামলায় তাদের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন আশা করছে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের সামরিক অভিযান সফল হবে। তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারলে, তারা সাম্প্রতিক ইতিহাসের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়বে। রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে হাজার হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে, যাদের একটি বড় অংশ মার্চের শেষে একটি অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজে পৌঁছানোর কথা। এছাড়া পেন্টাগন আরও বিশেষ প্রশিক্ষিত এয়ারবর্ন সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই সেনা মোতায়েন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে যে চলমান বিমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী স্থল যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন