এফবিআই প্রধানের ইমেইল হ্যাকের দাবি ইরান সম্পর্কিত হ্যাকারদের

এফবিআই প্রধানের ইমেইল হ্যাকের দাবি ইরান সম্পর্কিত হ্যাকারদের

ফন্ট সাইজ:

 ইরান সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা দাবি করেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর প্রধান কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ইনবক্সে অনুপ্রবেশ করেছে এবং তার কিছু ছবি ও ইমেইল প্রকাশ করেছে। শুক্রবার এফবিআই নিশ্চিত করেছে যে, প্যাটেলের ইমেইল টার্গেট করা হয়েছে। তবে তারা দাবি করে, এই হ্যাকের মাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টেলিগ্রাফ। এক মুখপাত্র বলেন, এই কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো ছিল পুরনো প্রকৃতির এবং এতে কোনো সরকারি তথ্য নেই।
হান্দালা হ্যাক টিম নামের একটি গ্রুপ তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে যে, এফবিআই প্রধান ‘এখন সফলভাবে হ্যাক হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাবেন।’ হান্দালা নিজেদেরকে ফিলিস্তিনপন্থি হ্যাকারদের একটি দল হিসেবে পরিচয় দিলেও, তাদেরকে ইরান সরকারের সাইবার গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর একটি ছদ্মবেশ হিসেবে মনে করা হয়। হ্যাকাররা ৩ শতাধিক ইমেইল ও কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যা দেখে মনে হয় এগুলো ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ব্যক্তিগত ও কাজ সংক্রান্ত বিষয়ের।

যদিও গ্রুপটি এই ঘটনাকে এফবিআইয়ের উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হ্যাক হিসেবে প্রচার করেছে, বাস্তবে পাওয়া তথ্যগুলোতে দেখা যায়, প্যাটেলের নতুন বাসা খোঁজার বিষয় কিংবা পারিবারিক ছবির সংগ্রহের মতো ব্যক্তিগত বিষয় আছে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রন ফাবেলা সিএনএনকে বলেন, এটি এফবিআইয়ের কোনো সিস্টেম ভাঙা নয়, এটা কারও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের ড্রয়ারে হাত দেয়া মাত্র।


২০২৪ সালে এফবিআই প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্যাটেলকে সতর্ক করেছিল যে তিনি ইরান সম্পর্কিত একটি হ্যাকের টার্গেট হয়েছেন। তার কিছু ব্যক্তিগত যোগাযোগে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। চীন ও ইরানের বিদেশি হ্যাকাররা তখন আগত ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকার চেষ্টা করছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করে, তার পর থেকে হান্দালা গ্রুপটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেল যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকারের ওপর হামলার দাবিও করে। ১১ই মার্চ সংঘটিত ওই সাইবার হামলায় হাজার হাজার কর্মীর ল্যাপটপ ও ফোন অচল হয়ে যায় এবং তাদের স্ক্রিনে হান্দালার লোগো ভেসে ওঠে। গ্রুপটি দাবি করে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই সাইবার হামলা করেছে।
৯ই মার্চ হান্দালা কয়েকজন ইসরাইলি কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য যেমন তাদের সম্ভাব্য ঠিকানা ও ফোন নম্বর প্রকাশ করে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরানি হ্যাকিং কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত চারটি ওয়েব ডোমেইন জব্দ করেছে এবং হান্দালা গ্রুপকেও বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করতে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার হান্দালা দাবি করে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের কয়েক ডজন কর্মীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এ সংক্রান্ত রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত এবং তাদের ব্যবসাকে সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও ব্যবস্থা রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন