মাদুরোর আইনি খরচে ভেনেজুয়েলার অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন বিচারকের

মাদুরোর আইনি খরচে ভেনেজুয়েলার অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন বিচারকের

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ খারিজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তাদের আইনি প্রতিরক্ষার খরচে ভেনেজুয়েলার অর্থ ব্যবহারে মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে শুনানিতে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভেনেজুয়েলাকে মাদুরোর আইনজীবীর খরচ বহন থেকে বিরত রাখতে পারে। জানুয়ারিতে সংক্ষিপ্ত শুনানিতে নির্দোষ দাবি করার পর এটিই ছিল মাদুরো ও তার স্ত্রীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ শুনানি।

এ খবর দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, মাদুরো ও ফ্লোরেস মামলাটি খারিজের আবেদন জানালেও বিচারক তা নাকচ করেন। তবে তিনি প্রতিরক্ষা পক্ষের উত্থাপিত কয়েকটি বিষয়ে প্রসিকিউশনের কাছে ব্যাখ্যা চান, যার মধ্যে অন্যতম ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, যাতে ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর আইনি ব্যয় বহন করতে না পারে।

ফেডারেল প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, জাতীয় নিরাপত্তার কারণে এ ধরনের অর্থপ্রদান অনুমোদন করা যাচ্ছে না এবং ভেনেজুয়েলার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞাও এতে বাধা। কিন্তু বিচারক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যে মাদুরো ৩ জানুয়ারি আটক হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, সেক্ষেত্রে এই যুক্তি কতটা প্রযোজ্য।

তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কে কারাবন্দি অবস্থায় মাদুরো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি—এমন দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত। আসামি এখানে উপস্থিত। ফ্লোরেসও এখানে। তারা আর কোনো জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে না বলে মন্তব্য করেন হেলারস্টেইন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী প্রত্যেক আসামির শক্তিশালী আইনি প্রতিরক্ষার অধিকার রয়েছে। অন্য সব অধিকারের ঊর্ধ্বে যে অধিকারটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো সাংবিধানিকভাবে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার।

২০১৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে চারটি ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নার্কো-টেররিজম (মাদক সন্ত্রাস) ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং ভারী অস্ত্র রাখার অভিযোগ।

৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযানকে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম হিসেবে বর্ণনা করলেও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।

মাদুরো নিজেকে এখনো বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান দাবি করে মামলাটি খারিজের আবেদন করেছেন। ৫ জানুয়ারির শুনানিতে তিনি বলেন, আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।

ফেব্রুয়ারির এক শুনানিতে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলাকে আইনি ব্যয় বহনে বাধা দেয়া হলে তা তার পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে।

এদিকে, কারাকাসে এএফপি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরোর ছেলে ও ভেনেজুয়েলার আইনপ্রণেতা নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন, তবে তার বাবার বিচার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই অবৈধতার ছাপ বহন করছে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের আদালতের সামনে মাদুরোর বিচার ঘিরে বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভ হয়। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন, আবার কেউ মাদুরো জেলে পচুক লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিচারকে সমর্থন জানান।

একইদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন যে মাদুরো ভেনেজুয়েলার কারাগার খালি করে অপরাধীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আনা অভিযোগ তার কর্মকাণ্ডের একটি ছোট অংশমাত্র এবং ভবিষ্যতে আরও মামলা হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন