ফের ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার সময়সীমা পেছালেন ট্রাম্প, আলোচনায় অগ্রগতির দাবি

ফের ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলার সময়সীমা পেছালেন ট্রাম্প, আলোচনায় অগ্রগতির দাবি

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পিছিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করছেন। নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত। তিনি দাবি করেন, আলোচনা চলছে এবং তা খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে, যদিও ইরান এ ধরনের কোনো আলোচনা অস্বীকার করেছে।

এর আগে রোববার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হবে। পরদিন তিনি গঠনমূলক আলোচনার কথা উল্লেখ করে পাঁচ দিনের জন্য সময় বাড়ান। বৃহস্পতিবারের ঘোষণা দ্বিতীয় দফা স্থগিতাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউসের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা আন্তর্জাতিক মহলে আরও সমালোচনার জন্ম দিতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করা জেনেভা কনভেনশনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে যুদ্ধাপরাধের হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ট্যাংকার চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় প্রণালিটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর কাছে প্রণালিটি পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে, তবে ন্যাটোসহ অনেক অংশীদার দেশ এতে সংশয় প্রকাশ করেছে।

একইদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ অবসানে চুক্তির জন্য অনুনয় করছে, যদিও দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরও বলেন, সঠিক চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে।

মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

এ পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১৯৩৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

তবে ইরান আবারও আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তারা আঞ্চলিক হামলা আরও জোরদার করবে।

Mohammad Harun Rashid

২ মাস আগে

যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে মনে হচ্ছে, যে উদ্যেশ্য নিয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে আক্রমণ করেছে তা সফল করতে দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এতে ইরান, ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সকল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা হাজার হাজার বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ধ্বংস হবে। সুতরাং দ্রুত সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তি করাই সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে গণ্য হবে। মনে রাখতে হবে ইরানের উপর এই আগ্রাসন তাঁদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে গণ্য। তাঁরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনে হয়!

মন্তব্য করুন