‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিলাম’

‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ভোট দিলাম’

ফন্ট সাইজ:

ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের সরব উপস্থিতি। এই কেন্দ্রেই জীবনের প্রথম ভোটটি দিতে এসেছেন ২২ বছরের তরুণী লায়লা আনজুম রিদিতা। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার পর চোখে-মুখে এক ধরণের তৃপ্তির ছাপ। প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে রিদিতা তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “বেশ ভালো লাগছে। সুষ্ঠু পরিবেশ আর যথেষ্ট সুন্দরমতো ভোট দিয়ে আসছি, কোনো সমস্যা হয়নি”।
৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশ’ নিয়ে রিদিতার মতো তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। যারা নতুন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন, তাদের কাছে তার দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট— একটি বৈষম্যহীন দেশ। তিনি বলেন, “আমার প্রত্যাশা খুবই সাধারণ। দেশের সবাই সুন্দরভাবে বাঁচবে, কেউ অনিরাপদ বোধ করবে না এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান মর্যাদা পাবে”।
তবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ে এক ধরণের শঙ্কা কাজ করছে এই তরুণীর মনে। তিনি মনে করেন, মানুষের পাহাড়সম প্রত্যাশা পূরণ করা নতুনদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ঢাকা-১০ আসনে নারী প্রার্থীর সংকট নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথা লুকিয়ে রাখেননি রিদিতা। এই আসনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব আরও থাকা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, নারীরা সমাজে ক্রমাগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি বলেন, “এখনো আসলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি, সত্যি কথা বলতে এখনো না। দেখা যাক সামনে কী হয়”।
নির্বাচনী লড়াইয়ে তাসনিম যারা বা মনিষীর মতো তরুণ নারীদের অংশগ্রহণকে অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে দেখছেন রিদিতা। তবে অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের যেভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বা ‘বট-বাহিনী’র আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এভাবে নারীদের হেয় করা থামতে হবে। এটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নারীরা সামনে আসতে চাইবে না”।
সব মিলিয়ে ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এই তরুণ ভোটার। রিদিতার মতো নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আশা, তাদের দেওয়া প্রতিটি ভোট আগামীর বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থেই বৈষম্যমুক্ত ও নিরাপদ করে তুলবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন