সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অর্পিত সম্পত্তির ভুলক্রমে তালিকাভুক্তি এবং দোকর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্তি হওয়াতে জনভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সম্পত্তির দখল থাকলেও ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, জরুরি প্রয়োজনে জমিজমা বেচাকেনা করতে পারছেন না তারা। এতে স্থানীয় জনসাধারণ মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরজমিন জানা যায়, সরকার কর্তৃক অর্পিত সম্পত্তিকে দুই ভাগ করে ‘ক’ এবং ‘খ’ তালিকায় গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলায় প্রকাশিত অর্পিত সম্পত্তি তালিকার গেজেট প্রকাশকালে ‘খ’ তালিকাভুক্ত জমিও ভুলক্রমে ‘ক’ তালিকাভুক্ত হওয়ায় দোকর সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। এতে ‘খ’ তালিকার গেজেটভুক্ত জমির সুবিধা প্রাপ্তিতে গোটা এলাকাবাসী বঞ্চিত। ‘খ’ তালিকার গেজেটভুক্ত ভূমিতে মালিকগণ যথাযথ কাগজপত্র প্রদর্শণ সাপেক্ষে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য সরকার পরিপত্র জারি করেছেন। গরিব অসহায় জনসাধারণ জমি-জমার মালিকানা প্রাপ্তি দূরের কথা, বর্তমানে দোকর তালিকাভুক্ত গেজেট প্রকাশিত হওয়ার কারণে ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন সূত্র ধরে জমির জোর দখলের পাঁয়তারা করছে। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৬ সালে ‘খ’ তালিকার গেজেট সংশোধনী/ভুল হওয়া সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা ৩ মাসের মধ্যে প্রস্তুতের জন্য প্রশাসকদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ আদেশের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (তালিকা) সিনিয়র সচিব ভূমি মন্ত্রণালয় বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু সেই আবেদনটি ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও অধ্যাবধি আলোরমুখ দেখেনি।
বিদ্যমান সমস্যাটির কোনো সুরাহা হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধিত গেজেটও প্রকাশ করা হয়নি। উপজেলার অর্পিত সম্পত্তির মালিকদের ‘খ’ তালিকার গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ভুক্তভোগী মহল। ভুক্তভোগী আসামপাড়া গ্রামের আমির হোসেন জানান, বিদ্যমান এ সমস্যা সমাধান না হওয়ায় আমার মতো অগণিত সাধারণ মানুষও নিজের ভূমি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ইতিপূর্বে ভুক্তভোগী পরিবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি। তাই আমি সরকারের মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় বরাবরে পুনরায় স্মারকলিপি দিয়েছি। পশ্চিম কালিনগর আমের বাসিন্দা আব্দুল হাফিজ জানান, ইতিপূর্বে আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি আবেদন করলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। এ কারণে আমরা বছরের পর বছর থেকে ভোগান্তিতে আছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী জানান, বিষয়টি নিষ্পত্তিকল্পে আমাদের ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
গোয়াইনঘাটে দোকরে বিভক্ত হওয়া ভূমি আলোর মুখ দেখেনি মানুষ
মিনহাজ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে
২৭ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
