যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে কোনো আলোচনা নয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের নেতারা চুক্তি করতে চান। কিন্তু বুধবারই ট্রাম্পকে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আপনার পরাজয়কে চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করবেন না। এমন অবস্থায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স আরও তথ্য সামনে এনেছে।
এতে বলা হয় ট্রাম্প বলেছেন, প্রায় চার সপ্তাহের যুদ্ধ শেষ করতে ইরান ‘মরিয়া হয়ে’ একটি চুক্তি করতে চায়। এর বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করলেও যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো সরাসরি আলোচনায় বসার ইচ্ছা নেই। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে, যখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দেশ ও ব্যবসাগুলো ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা বা সংলাপ না থাকলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। তিনি বলেন, বন্ধু দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা পাঠানো এবং আমরা আমাদের অবস্থান জানানো বা প্রয়োজনীয় সতর্কতা দিচ্ছি। এগুলোকে আলোচনা বলা যায় না।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতারা আসলে আলোচনা করছে। তারা ভীষণভাবে একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু তারা সেটা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ এতে তাদের নিজ দেশের মানুষই তাদের হত্যা করতে পারে। আবার আমাদের পক্ষ থেকেও হুমকি রয়েছে।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি তিনি ইরানের ঠিক কার সঙ্গে আলোচনা করছেন। কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। তার স্থলাভিষিক্ত হন তার ছেলে মোজতবা খামেনি। তিনি নিজেও আহত এবং এ পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানের অনুরোধে ইসরাইল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে টার্গেটের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। কারণ তারা নিহত হলে আলোচনার জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। ইসলামাবাদে ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, পাকিস্তানে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে, যদিও এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।
যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে
এই সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিমান, সুপারমার্কেট থেকে শুরু করে ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসা পর্যন্ত সবখানেই ব্যয় বেড়েছে, চাহিদা কমেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে কোটি কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। আবুধাবির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি এডিএনওসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আল জাবের ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলেছেন। তিনি বলেন, ইরান যখন হরমুজকে জিম্মি করে, তখন প্রতিটি দেশ এর মূল্য দেয় জ্বালানি, খাদ্য এবং ওষুধের দামে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব
পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে- হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরাতে হবে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে। আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ইসরাইলি কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ইরান এসব শর্ত মেনে নেবে কিনা। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ছাড় দিতে পারে। এছাড়া ইরান জানিয়েছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বাজারে প্রভাব
যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশায় আগের দিন শেয়ারবাজারে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা দ্রুত ম্লান হয়ে গেছে। তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ ভাগ মার্কিন নাগরিক ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান থেকেও ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে। ইরানের ৯২ ভাগ বড় নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হার ৯০ ভাগ কমে গেছে। এছাড়া পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা স্থল হামলার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন আরও বড় যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আহ্বান জানান, সংঘাত বাড়ানোর পথ বন্ধ করে কূটনীতির পথে ফিরে আসার সময় এসেছে।

Mustafizur Rahman
২ মাস আগেIran will be trapped again if they pay any heed to Joker Trump. This time, Iran should go after Israel only and make it like a hell.