ইরান নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের ট্রাম্পের হুমকি তাদের দ্বিধায় ফেলেছে

নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট

ইরান নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের ট্রাম্পের হুমকি তাদের দ্বিধায় ফেলেছে

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ ইউরোপবিরোধী মন্তব্যে ইউরোপের নেতাদের নিন্দা জানিয়েছেন। কারণ তারা হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছিলেন, ‘তারা যে উচ্চ তেলের দাম দিতে বাধ্য হচ্ছে তা নিয়ে অভিযোগ করে’। কিন্তু ‘একটি সাধারণ সামরিক পদক্ষেপ, যা উচ্চ তেলের মূল কারণ, তা তারা অস্বীকার করছে।’

যতই আবেগপ্রবণ হোক তার এই মন্তব্য, এর মাধ্যমে একটি গভীর সত্য উঠে এসেছে: ট্রাম্প ইউরোপের নেতাদের একটি দ্বৈত বাধায় ফেলেছেন। ইরানের কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ফলে মহাদেশজুড়ে সম্পূর্ণ জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় ভোটাররা ক্ষুব্ধ। ফলে নেতাদের উপর চাপ বাড়ছে যেন তারা জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় খোলে। একদিকে, ইউরোপের রাজনৈতিক প্রবাহ যুদ্ধের বিপক্ষে। অনেক বিশেষ করে বামপন্থীরা এটিকে অনাবশ্যক, অবৈধ ও ইউরোপের নাজুক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য হুমকিস্বরূপ বলে মনে করছে। নেতারা ইরাক যুদ্ধের স্মৃতিতেও আটকে আছেন। বিশেষ করে বৃটেনের জন্য। এটা তাদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি আফসোসের কারণ।

ফরাসি ও যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরার্ড আরাউদ বলেন, আমরা যেমন সবসময় বিভক্ত, তেমনি ইউরোপের বিভিন্ন স্তরে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। যা ঘটছে তা নিয়ে আমরা পুরোপুরি চমকে যাচ্ছি। ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বিচারব্যবস্থা সংস্কারের একটি গণভোটে হেরেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তাকে। ট্রাম্পের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার ধারণাও তাকে সাহায্য করতে পারেনি। ফ্রান্সে, মধ্যপ্রাচ্য হস্তক্ষেপের বিরোধী একটি বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবোউড’ মেয়র নির্বাচনে জয় পেয়েছে। মুসলিম ভোটাররা যুদ্ধ নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ায় দলটি উপকৃত হয়েছে। তবুও, ইউরোপের জন্য হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় যাতে বন্ধ না থাকে তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

জার্মানিতে গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ২ ইউরোর বেশি। এই প্রভাব হ্রাস করতে জার্মানি ও অন্যান্য দেশ খরচসাপেক্ষ কর ছাড় ও মূল্যসীমা প্রয়োগ করেছে। ট্রাম্প ইউরোপকে চাপ দিলেও, তাদের নেতাদের জন্য তাকে সমর্থন করা সহজ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে তার মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি। ট্রাম্প ইউরোপের নেতাদের অবমাননা করেছেন। বিশেষ করে বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের প্রতি।

ন্যাটোর সাবেক রাষ্ট্রদূত আর নিকোলাস বার্নস বলেন, ট্রাম্পের শত্রুপ্রবণ মন্তব্যগুলো ইউরোপীয় নেতাদের জন্য আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব করে দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রকৃতপক্ষে ইউরোপের সামরিক সম্পদ প্রয়োজন নেই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপকে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে বাধ্য করনো। বিশ্লেষকরা বলেন, ইউরোপ সামরিকভাবে সহায়তা করতে পারে (যেমন: মাইনসুইপার, ট্যাঙ্কার জাহাজের এসকর্ট করা)। তবে এর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন। ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেননি। কারণ যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও যুদ্ধ শেষ করে বের হওয়ার পথ এখনও স্পষ্ট নয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন নেয়ার চেষ্টা করছেন। ইউরোপের জন্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় ভূমিকা নেয়া সম্ভব। তবে ট্রাম্পের অবিশ্বাস, ইউরোপের ট্রাম্প বিরোধী ভয় এবং ইরানের অবিশ্বাস এই প্রচেষ্টা সীমিত করছে। আরাউদ বলেন, আমরা মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করতে পারি। কিন্তু ট্রাম্প পাকিস্তানকেই এ দায়িত্ব দিতে চায়। ইরানও আমাদের বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে আমরা আমেরিকানদের পকেটে আছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন