‘পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশ নয় ভারত’

‘পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশ নয় ভারত’

ফন্ট সাইজ:

ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের বৈদেশিক সংঘাতে বা যুদ্ধে মধ্যস্থতার ভূমিকাকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। এ বিষয়ে বুধবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য স্মরণ করিয়ে বলেন, পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করবে না ভারত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের একটি পোস্ট শেয়ার করার পর সক্রিয় ব্যাকচ্যানেল কূটনীতির কল্পনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। তিনি সমাধান প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এনডিটিভির সূত্র জানায়, এই ধরণের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফল। এক সূত্র জানায়, পাকিস্তান এটি ১৯৮১ সাল থেকে করছে, যখন তারা যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইন্টারেস্ট সেকশন’ পরিচালনা করছিল। এ বিষয়টি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার জন্য কাজ করত। পাকিস্তান ২০২০ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন ও তালেবানের মধ্যে এবং ২০১৯ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট মোকাবিলায় ভারতের পদক্ষেপের সমর্থন দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অভিযোগ ও নীতিগত অস্পষ্টতা অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ভারত সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বিবৃতি, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আউটরিচের মাধ্যমে জড়িত রয়েছে। সূত্র মতে, এ পর্যন্ত ৪.২৫ লাখ ভারতীয়কে ইরান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং যারা এখনও ইরানে রয়েছেন তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় নজরদারি চলছে।

সরকার আরও জানায়, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে আছে। কিন্তু ভারতের ইরানি তেল কিনতে কোনো বাধা হয়নি, যা ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে এও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই এবং এলপিজি সরবরাহ স্থিতিশীল হচ্ছে। এছাড়া বৈঠকে বলা হয়েছে, ভারতের অপর্যাপ্ত খনিজ তেলের একটি বড় অংশ রাশিয়া থেকে আসে, যা বাস্তবধর্মী এবং বৈচিত্র্যময় জ্বালানি কৌশলকে তুলে ধরে।

সরকার জানিয়েছে, ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে মনে করে তারা। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পুনরায় জোর দিয়েছে যে, ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে, ইরানের সঙ্গে চলমান যোগাযোগ অব্যাহত রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে। সর্বদলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরকারের সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন