ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রকল্প: ইউরোপীয় কমিশনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু

ফন্ট সাইজ:

ফ্রান্স সরকার যে ছয়টি নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে, সেই প্রকল্পের জন্য প্রদত্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সহায়তাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় কমিশন একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তে মূলত দেখা হবে এই অর্থায়ন ইইউ এর প্রতিযোগিতা আইন ও বাজারনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিনা।
ফরাসি শক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “ইইউ এর পর্যালোচনা দ্রুত অগ্রসর হবে এবং এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে বড় ধরনের বিলম্ব সৃষ্টি হবে না। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে রয়েছি।”
এই ছয়টি নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১০ গিগাওয়াট বৃদ্ধি করবে এবং দেশটির পুরনো রিয়াক্টরগুলো প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি আগামী কিছু বছরের শক্তি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে। প্রথমটি ২০৩৮ সালে কার্যক্রমে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তদন্তে অংশ নেওয়া ফরাসি কর্মকর্তা বলেন, এই রিয়াক্টরগুলো নির্মাণের মোট খরচ দশ হাজার কোটি ইউরো বা তারও বেশি হতে পারে এবং এটি ফ্রান্সের শক্তি নিরাপত্তাকে আরও দৃঢ় করবে।

ইউরোপীয় কমিশনের উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত শক্তি সংস্থা EDF (Electricité de France) ইতিমধ্যেই দেশের মোট বিদ্যুতের ৭৫ % বা তার বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। কমিশন মনে করছে, এই প্রকল্পের ফলে EDF‑এর বাজারে আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা অন্য প্রতিযোগীদের জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্পগুলোর ব্যয়, সময়সূচি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ শক্তি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের মতে, নিরাপদ ও স্থিতিশীল শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, “নিউক্লিয়ার শক্তি একটি নির্ভরযোগ্য, কম‑কার্বন উৎস হিসেবে ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ও শিল্প প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রন এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফ্রান্সের শক্তি নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির জন্য পারমাণবিক শক্তি নীতি অপরিহার্য, এবং তারা ইইউ এর সঙ্গে সহযোগিতা করে এটি বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।
এই পদক্ষেপের ফলে ফ্রান্সের শক্তি খাত ও ইইউ এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। সরকারের তাত্ত্বিক ও বাস্তব প্রেক্ষাপটে শক্তি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতা ও পরিবেশগত লক্ষ্যকে সংহত করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন