৫৪ বছর শাসক বদলেছে, শোষণের ধারা বদলায়নি- জামায়াত আমীর

৫৪ বছর শাসক বদলেছে, শোষণের ধারা বদলায়নি- জামায়াত আমীর

ফন্ট সাইজ:

স্বধীনতার ৫৪ বছরে দেশে শাসক বদলেছে, শোষণের ধারা বদলায়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, আমরা চাই, দেশে গণতন্ত্রের ধারা প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু একটি দল নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে। জনগণের রায়কে অমান্য করার চেষ্টা করছে।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জামায়াত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, লে. কর্র্নেল (অব.) হাসিবুর রহমান, মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কামাল হোসেন এমপি, রাশেদুল ইসলাম এমপি, ডিইউজে’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম, এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, এডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী একটি দল সরকারে থাকবে, আরেকটি দল বিরোধী হবে। সরকার ঠিক করলে সরকারকে সহযোগিতা করবে, আর ঠিক না করলে বিরোধিতা করবো। আমরা গণতন্ত্র অনুযায়ী সরকারের সব ভালো কাজে সহযোগিতা করবো। আর জনগণের বিরুদ্ধে যে কানো পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা হলে কঠিন ভাষায় তা প্রতিহত করবো।
তিনি বলেন, আমরা যদি এই সরকারের ব্যর্থতা চাইতাম, তাহলে এখন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতাম। আমরা চাই সরকার সফল হোক। কিন্তু সরকারই যদি উল্টো পথে হাঁটে তাহলে আমাদের তো কিছু করার থাকবে না।
সরকারকে সঠিক পথে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, আসুন, জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করি। যদি জুলাই সনদ মেনে নেয়া না হয় তাহলে হাদি হত্যা বিফলে যাবে, ফেলানী হত্যা বিফলে যাবে, আবরার ফাহাদ হত্যা বিফলে যাবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা জনরায়কে মূল্যায়ন না করে এ দেশে লুণ্ঠন করেছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছিল। আমাদের লড়াকু যোদ্ধারা তাদের পরাজিত করে একটি স্বাধীন পতাকা অর্জন করেছিল। আপনারাও যদি জনরায়কে মেনে না নেন, তাহলে আমাদের তরুণরা কঠিন ভাষায় তার জবাব দেবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে গণরায় না মেনে খেসারত দিতে হয়েছিল। আপনারাও জনগণের রায় মেনে না নিলে জাতি ছেড়ে দেবে না। আমরা সংসদে ও বাইরে এর জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
এলডিপি’র চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমি একজন তরুণ ক্যাপ্টেন হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তার অন্যতম কারণ ছিল বৈষম্য, সুশাসনের অভাব। আমি মুক্তিযুদ্ধের আগে দলীয়করণ দেখেছি। এখনও আমাদের দেশে সরকার ও সরকারদলীয় মানুষ ছাড়া সাধারণরা বৈষম্যহীন সেবা পাচ্ছে না। তাই তারা জনগণের রায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও প্রসিদ্ধ হওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে। আপনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জাতির কাছে প্রসিদ্ধ হতে পারেন। জনগণের রায়ের বিপক্ষে হাঁটবেন না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছরে পা দিলেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এজন্যই ২০২৪ সালে আবারও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রক্ত ঝরাতে হয়েছে। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলো ২০২৪ সালের স্বাধীনতায় যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেটি থেকেও সরকার এখন দূরে সরে দাঁড়াতে চাচ্ছে। এখন তারা ৩৬০ ডিগ্রি উল্টোদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা সব ভালো কাজে সরকারকে সহযোগিতা করবো। সব খারাপ কাজে বিরোধিতা করবো। কতবার এই জাতিকে রক্ত দিতে হবে? আমরা স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ততবার রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, যারা ২৪-কে ব্যর্থ করতে চান, তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, আমরা ২৪-কে ব্যর্থ হতে দেবো না। আমরা জুলাই সনদকে বিলীন হতে দেবো না। যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদের ভেতরে এবং আমরা বাহিরে থেকে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে-এর কোনো বিকল্প নেই।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন