ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশে আর প্রতিশোধের রাজনীতির দরকার নাই। সকলে মিলে, সকলের সহযোগিতায় সামনে এগোতে হবে। গত সোমবার সন্ধ্যায় বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুরে তাকে দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার নির্বাচনী এলাকায় মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখানোর এবং মামলা বাণিজ্য চলতে না দেয়ার কথাও বলেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, মামলা বাণিজ্য সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেছে। এই বাণিজ্যের ব্যাপারে শুরুর দিকে কেউ কথা বলেনি। কিন্তু আমি বলেছিলাম, আপনারা মনে করে দেখেন। আমি বলেছিলাম একেকটা মামলার এফআইআর, শত শত আসামি। মিথ্যাভাবে পয়সা দিয়ে হয় কারও নাম দেয়। সেই নাম কাটানোর জন্য আবার পয়সা নেয়। আমি বারবার বলেছিলাম এই মামলা বাণিজ্য কিন্তু ধ্বংস নিয়ে আসবে।
এই বাংলাদেশ আমরা সকলে মিলে, সকলের সহযোগিতায়, সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সামনে এগুবো। প্রতিশোধের রাজনীতি অনেক হয়েছে বাংলাদেশে- আর দরকার নাই। যারা চিহ্নিত অপরাধী, ফৌজদারি অপরাধ করেছে নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। কিন্তু যারা কোনো অপরাধ করেনি, যারা ফৌজদারি অপরাধ করেনি আপনার সঙ্গে কেবল জমি নিয়ে, ব্যবসা নিয়ে বিরোধ, আপনি তার কাছে টাকা চেয়েছেন পাননি, তাই বলে তার নামটা মামলায় দিয়ে দেবেন, এই মামলা বাণিজ্য এই এলাকায় চলতে দেবো না। থানার ভাইদের অনুরোধ করবো মামলা যখন আসে দয়া করে যাচাই-বাছাই করে মামলা নেবেন। আরেকটা শুরু হয়েছে শ্যোন অ্যারেস্ট।
জামিন হয়ে যায়। বের হওয়ার সময় জেল গেটে বলে আরেকটা মামলা আছে। এইগুলোর পরিণতি ভালো হবে না। কোনো একটা জায়গাতে আমাদের থামতে হবে। আমি ৫ বছর ক্ষমতায়, আমি শোধ নিলাম। আবার নতুন যারা আসবে তারা আবার আমাদের ওপর শোধ নেবে। আবার আমরা আসবো, আমরা শোধ নেবো। আর কতো শোধ নেয়া-নেয়ির খেলা খেলবো। এবার আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করা দরকার। অপরাধীদের নিশ্চয় শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু নিরপরাধীকে যেন বিনা অপরাধে সাজা না দেয়া হয়। সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.এমরান জাহান, মডার্ন হাসপাতালের এমডি আশেদুল হক জিন্টু, সানাউল হক মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক মিয়া, মো. হামিদুল হক খোকা, জজ মিয়া, ইয়াসমিন আক্তার, লিমন মিয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক আরফিনা আজিজুন্নাহার শিউলি।
