জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে সোহেল রানা (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই মৃত্যুর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঞ্জু মিয়া (৪০) নামে এক প্রতিবেশীও মৃত্যুবরণ করেছেন। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ঢোলভিটি পূর্বপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢোলভিটি গ্রামের লিটন মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের (১৬) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চাপারকোনা গ্রামের রনির মাসখানেক আগে পারিবারিকভাবে কাবিন সম্পন্ন হয়। কথা ছিল ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কনে তুলে নেয়া হবে। কিন্তু হঠাৎ শিলা এই বিয়ে অস্বীকার করলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে গত সোমবার রাতে রনি তার এলাকার মাতব্বর ও বন্ধুদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে শিলাদের বাড়িতে যান।
আলোচনা চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় প্রতিবেশী সোহেল ঘুম থেকে উঠে ঝগড়া থামাতে শিলাদের বাড়িতে ছুটে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাশের একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহেল ওই গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। এদিকে সোহেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই খবর শুনে তাকে দেখতে গিয়ে মঞ্জু মিয়া নামে এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলেই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেন। একই রাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুতে গ্রাম জুড়ে এখন শোকের মাতম চলছে। নিহত সোহেলের চাচা দুলাল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, সোহেল সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিল। সে কেবল ঝগড়া থামাতে গিয়েছিল। আমরা হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। সরিষাবাড়ী থানার ওসি বাচ্চু মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
