সরাইলে দুর্বৃত্তদের হামলায় কেয়ারটেকার, ভাবীর কোপে দেবর খুন

সরাইলে দুর্বৃত্তদের হামলায় কেয়ারটেকার, ভাবীর কোপে দেবর খুন

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঈদের ছুটির ৪ দিনের ব্যবধানে একই ইউনিয়নে দুইজন খুন হয়েছেন। দুর্বৃত্তদের হামলায় শেখ আশরাফ উদ্দিন আহমেদ ধন মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার মো. নুর আহাম্মদ (৭৫) ও দত্তপাড়ায় ভাবীর দায়ের কোপে দেবর সুমন মিয়া (৩০) খুন হয়েছেন। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের একই এলাকায় ধন মিয়ার বাড়িতে আর গত বৃহস্পতিবার বিকালে দত্তপাড়ায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহত নুর আহাম্মদ একই ইউনিয়নের মনিরবাগ গ্রামের আকবর আলীর ছেলে। সুমন ওই এলাকার গোলাপ মিয়ার ছেলে। পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, মাসিক ১৫শ’ টাকা বেতনে জনমানব শূন্য ধন মিয়ার বাড়িতে কেয়ারটেকার হিসেবে গত ৩০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন নুর। ধন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা কেউই বাড়িতে না থাকায় বাড়িটি নিস্তব্ধ হওয়ায় বাড়িতে এলাকার কিছু মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা আস্তানা করার চেষ্টা করতো।

ডাকাতি, লুটপাট, অসামাজিক ও অনৈতিক কাজ করার সুযোগ খুঁজতো। কিন্তু বাধা দিতেন নুর আহাম্মদ। আর সেটাই হয় তার। গত রোববার গভীর রাতে নুরকে তার কক্ষ থেকে রশি দিয়ে বেঁধে বাহিরে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ওই বাড়ির একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে তার মাথায় আঘাত করে ফেলে চলে যায়। প্রতিদিন ভোর ৬টায় নিজের বসতবাড়িতে আসলেও গত সোমবার নুর আসছিলেন না। এতে তার ছেলে সুমনের সন্দেহ হলে ধন মিয়ার বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে একটি কক্ষে পিতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে নুরকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে সরাইল, পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নুর মারা যান। নুর আহাম্মদের বড় ভাই জুরু মিয়া (৮০) বলেন, আমার ভাইয়ের কোনো শত্রু নেই। ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি জানান, প্রায় ২ বছর আগেও একবার তাকে ৪/৫ জন যুবক আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। তখন নুর দৌড়ে নিজ বাড়িতে এসে আত্মরক্ষা করেছিল। অনুরূপ ধারণা করছে ‘কালীকচ্ছ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবী’ সংগঠনের সদস্যরা। এই সংগঠনের পক্ষ থেকে পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। গত সোমবার বেলা ১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ও সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ একজনকে আটক করেছেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সুমন মিয়ার পরিচিত এক এনজিও কর্মীর মোটরসাইকেল বাড়ির পাশের রাস্তায় পার্কিং করে রাখেন। এতে সুমনের চাচাতো ভাই প্রবাসী আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী রোমানা বেগম ক্ষিপ্ত হলে তাদের দু’জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। দুপুরের দিকে সুমন আবার বাড়িতে ফিরলে রোমানা ফের গালমন্দ করতে থাকেন। ফলে তাদের মধ্যে আরেক দফা বাক-বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে সুমনের ভাবী উত্তেজিত হয়ে সুমনের বুকে ও হাতে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে সুমন গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পলাতক রয়েছেন রোমানা। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রোমানার শাশুড়ি রানু আরা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণে করেছেন। ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একজনকে আটক করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন