র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, এবার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ঝুঁকি নেই। তবে নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করবে, আইন অমান্য করবে, ভোট চুরি, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করবে- তারাই এবার ঝুঁকিতে পড়বেন। কোনো নাশকতাকারীকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবার শক্ত অবস্থানে আছি। আমরা প্রতিটি বাহিনী সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি দেশবাসীকে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকার রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান তিনি।
নির্বাচনে জঙ্গি হামলার কোনো নির্দিষ্ট থ্রেট বা হুমকির তথ্য নেই উল্লেখ করে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গি হামলার শঙ্কা না থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কোনো বহিরাগত ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না। যদি কোনো সন্দেহজনক উপস্থিতি বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আমাদের নজরে আসে, তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়ে র্যাব প্রধান বলেন, আমরা এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ না বলে বরং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় হিসেবে বিবেচনা করছি। সে কারণে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ- উভয় ধরনের ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা যারা স্ট্রাইকিং বা মোবাইল টিম হিসেবে কাজ করছি র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও পুলিশ। আমরা সকলেই খুব সুন্দর একটি সমন্বয়ের মধ্যদিয়ে মাঠে আছি। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বলে আমরা কোনো বড় আশঙ্কা করছি না। এবার সর্বাধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি রয়েছে, পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন, র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে। এরপরও যদি কোথাও বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নষ্ট হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। অধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে পরে প্রয়োজনে সেখানে পুনরায় নির্বাচন হবে।
র্যাব ডিজি বলেন, এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে র্যাব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তফশিল ঘোষণার পর থেকেই আমরা আমাদের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের মূল ম্যান্ডেট অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনে আমরা অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করেছি।
গত দেড় থেকে দুই মাসে আমরা বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। গত মঙ্গলবার কুমিল্লা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং বুধবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যথাসম্ভব ভালো রাখা, যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনী সময়কে তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়। নির্বাচন পূর্ব সময় অর্থাৎ প্রাক নির্বাচনী সময় আমরা খুব ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছি। ছোটখাটো কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন বড় কোনো সমস্যা হয়নি। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনের আগের এই শেষ সময়টুকু সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই উপলক্ষে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার আমরা স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো। তিনি বলেন, সারা দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৮টি মেট্রোপলিটন এলাকায় আমাদের টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে কোনো বড় ধরনের গোলযোগ ছাড়াই আমরা দেশবাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান র্যাবের এই সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তা।
