ডিউক বলের হাহাকার, বিপাকে ইংলিশ ক্রিকেট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা

ডিউক বলের হাহাকার, বিপাকে ইংলিশ ক্রিকেট

ফন্ট সাইজ:

ইংলিশ ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। তবে এর আগেই দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাজঘরে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবার সরাসরি আঘাত হানলো ক্রিকেটের ঐতিহ্যে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে তৈরি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ডিউক ক্রিকেট বলের তীব্র সংকট। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া কাউন্টি ও আসন্ন টেস্ট মৌসুমের ওপর। সরবরাহের এমন অচলাবস্থার জন্য ‘উপসাগরীয় যুদ্ধের উন্মাদনা’কে দুষছেন খোদ ডিউক বলের মালিক দিলীপ জাজোদিয়া।

ডিউক বল মূলত তৈরি করে বৃটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন অ্যাঙ্গাস গরুর চামড়া থেকে বলটি তৈরির যাত্রা শুরু হয়, যা ড্রেসিং শেষে পাঠানো হয় পাকিস্তান বা ভারতে। সেখানে দক্ষ কারিগরের হাতের সেলাই শেষে বলগুলো আবার ফিরে আসে লন্ডনের কারখানায়। তবে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ধরে বিমান সংস্থাগুলো পণ্য পরিবহনে অনীহা দেখাচ্ছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় আটকে আছে হাজার হাজার লাল বল।

৮০ বছর বয়সী জাজোদিয়া জানান, আগে যেখানে প্রতি কেজি বল পরিবহনে ৫ ডলার খরচ হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ ডলারে! পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ক্লাবগুলোকে এখন চাহিদার কেবল ৫০ শতাংশ বল সরবরাহ করা হচ্ছে। জাজোদিয়ার ভাষ্যমতে, ‘ফ্যাক্টরিতে বল প্রস্তুত থাকলেও বিমানে জায়গা মিলছে না। এই জট না ছুটলে মৌসুমের মাঝপথে বলের জন্য হাহাকার পড়ে যাবে।’ সমাধান খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে জাজোদিয়া আরও বলেন, ‘সম্প্রতি শুনেছি, পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে পণ্য পাঠানো যাচ্ছে। এটা একটি বিকল্প পথ হতে পারে। মানুষ উপায় বের করবেই। খরচ হয়তো অনেক বেশি হবে, তবে কোনো না কোনো উপায় বের করতে হবে।’

যদিও ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) দাবি, কাউন্টি ক্লাবগুলোর কাছে পর্যাপ্ত বল পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তবে মাঠের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। গত কয়েক বছর ধরেই ডিউক বলের মান নিয়ে কিছুটা বিতর্ক থাকলেও, ইংলিশ কন্ডিশনে এর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে কুকাবুরা বলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার পর ডিউকের ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন