আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। তারা খেলবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সামনে দারুণ এক সুযোগ অপেক্ষা করছে। নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারলে আইসিসি’র র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থানে উঠে আসবে বাংলাদেশ। এতে মিলবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ। সিরিজটিকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াইও বলা যায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে দারুণ জয়ে আত্মবিশ্বাসী দল। তবে এই বিশাল সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েও দলের ওপর বাড়তি প্রত্যাশার চাপ দিতে নারাজ অনেকেই। জাতীয় দলের সাবেক নির্বাচক ও অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, কোনো চাপ নেয়া ঠিক হবে না। খেলোয়াড়েরা ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঈদ-আনন্দ নিয়েই কিউইদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামুক, এমনটাই তার চাওয়া। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘সিরিজ শুরুর আগেই ৩-০ ব্যবধানে জেতার চিন্তা করা ঠিক নয়। এটি অনেক দূরের ভাবনা। প্রতিটি সিরিজই নতুন চ্যালেঞ্জ। নিউজিল্যান্ড অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল। গত সিরিজে আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, সেটি ধরে রাখাই মূল কাজ হবে। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে হবে। লম্বা চিন্তা না করে, ভালো শুরু করা এবং ফলাফল ধরে রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’ অন্যদিকে সদ্যই পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ জয়ে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড বর্তমানে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর দল। আইপিএল চলায় নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ তারকারা এই সফরে থাকছেন না।
ফলে কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করার দারুণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। এই সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কঠিন পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের মতে, বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে প্রতিটি পয়েন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পয়েন্ট আর র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব কষে খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা যৌক্তিক নয়। ধারাবাহিক ভালো খেলার ওপরই মূল জোর দিচ্ছেন সাবেক নির্বাচক। হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘সিরিজ শুরুর আগে ৩-০ নিয়ে ভাবার কোনো কারণ নেই। আমাদের আরও অনেক খেলা আছে। পারফরম্যান্স যেন ধারাবাহিকভাবে ভালো থাকে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য যেন পূরণ হয়, সেদিকেই নজর দেয়া উচিত।‘
এছাড়াও দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ওপেনিং জুটি নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। সদ্য সমাপ্ত সিরিজে দারুণ এক সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। কিউইদের বিপক্ষেও তার ব্যাটে বড় রানের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে তানজিদের সঙ্গী হিসেবে ওপেনিংয়ে কে নামবেন, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে। সর্বশেষ সিরিজে অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারকে খেলানো হয়নি। লিটন কুমার দাসও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। মূলত তানজিদ ও সাইফ হাসানকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ওপেনিং জুটিতে বারবার পরিবর্তন দলের ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সই এখন মুখ্য। এ বিষয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘ক্রিকেট কোনো ব্যক্তিগত খেলা নয়, এটি দলীয় খেলা। দলের জন্য যা ভালো হবে, টিম ম্যানেজমেন্ট সেটাই করবে। গত ছয় মাসে আমরা পাঁচ-ছয়বার ওপেনার পরিবর্তন করেছি। তানজিদের সঙ্গী হিসেবে যে-ই আসুক, আমি চাইবো ওই জায়গাটিতে যেন ধারাবাহিকতা থাকে।‘
তবে বোলিং ইউনিট নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। স্পিনার ও পেসাররা নিজেদের দায়িত্ব চমৎকারভাবে পালন করছেন। পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ধরে রাখা প্রয়োজন। আগামী ১৩ই এপ্রিল বাংলাদেশে পা রাখবে নিউজিল্যান্ড দল। ১৭ ও ২০শে এপ্রিল মিরপুরে এবং ২৩শে এপ্রিল চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৭ ও ২৯শে এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং ২রা মে মিরপুরে হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সামনে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকায় সরাসরি মূল লড়াইয়ে নামতে হবে দলকে। টানা ক্রিকেটের ধকল কাটিয়ে উঠতে এই ছুটির সময়টা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে সাহায্য করবে। কৌশল ও পরিকল্পনার পাশাপাশি মানসিকভাবে সতেজ থাকাটা ভালো পারফরম্যান্সের পূর্বশর্ত। তাই আপাতত ক্রিকেট নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনার চেয়ে খেলোয়াড়দের ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে দেয়াই শ্রেয়। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের বোলিং আক্রমণ খুব ভালো করছে। পেসার এবং স্পিনার উভয়ই দুর্দান্ত পারফর্ম করছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কী পরিবর্তন হবে, তা বলার সময় এখনও আসেনি। আমি চাই খেলোয়াড়রা তাদের এই ছুটির সময়টা উপভোগ করুক। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। সবার ঈদের দিনটি আনন্দে কাটুক।’
.

Sienat
২ মাস আগেদেশে এত আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও কেনো শুধু মিরপুর আর চট্টগ্রামে ম্যাচ দেওয়া হয়? পাপন, ফারুক যুগের অবসান হলেও বিসিবির পরিবর্তন হয়নি। শ্রীলঙ্কার মতো দেশ পর্যন্ত প্রত্যেকটি ম্যাচ আলাদা আলাদা স্টেডিয়ামে আয়োজন করে আর আমরা ঢাকা চট্টগ্রাম ছাড়া আর কিছু বুঝিনা। বগুড়া, খুলনা, সিলেটে এই সিরিজের ম্যাচ গুলো দিলে সেই অঞ্চলের মানুষ গুলো খেলা দেখতে পেতো, বিসিবি আরো বেশি আয় করতে পেতো