ইত্তিহাদে রূপকথা লেখা হলো না ম্যানচেস্টার সিটির। দ্বিতীয় লেগেও হার দেখলো ইংলিশ জায়ান্টরা। ২-১ গোলের জয়ে দুই লেগ মিলে ৫-১ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো রিয়াল মাদ্রিদ। এদিন অল হোয়াইটদের দুটি গোলই করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ১০ জনের দল নিয়ে শুধু একটি গোলই শোধ দিলে পারে সিটিজেনরা। এ নিয়ে শেষ তিন মৌসুমে তিনবার রিয়ালের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেল সিটি। এবং শেষ পাঁচ বছরে চারবার!
তবে প্রথম লেগের মতো এদিনের খেলা একপেশে হয়নি। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ করে দুদলই। তবে ২০তম মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। রিয়ালের একটি নিশ্চিত গোল বাঁচাতে গিয়ে গোললাইনে হ্যান্ডবল করে বসেন বার্নার্দো সিলভা। সরাসরি লাল কার্ড দেখে উঠে যান তিনি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিতে (ভিএআর) চেক করার পর সফরকারীরা পেনাল্টি পেলে আগের লেগের পাপমোচন করেন ভিনি। স্পটকিক থেকে এবার আর দলকে হতাশ করেননি এ ব্রাজিল তারকা। ৪১তম মিনিটে এক গোল শোধ দেন আর্লিং ব্রুট হালান্দ। বিরতির পর সিটিজেনদের দুটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। যোগ করা প্রথম মিনিটে ভিএআরে একটি গোল বাতিল হয় ভিনিরও। তবে মিনিট দুয়েকের মধ্যে নিজের ও দলের শেষ গোলটি করেন পরে ম্যাচসেরা হওয়া এ সেলেসাও ফরোয়ার্ড। ম্যাচের পর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ভিনি বলেন, ‘আমরা সব খেলোয়াড়ই জানি যে, বড় ম্যাচগুলো ধেয়ে আসছে। এই প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদ খেলতে নামলেই সবকিছু বদলে যায়। দর্শক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়, সবার মাঝেই পরিবর্তন আসে। আমরা সামনের লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’ চ্যাম্পিয়নস লীগে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ ম্যাচের রেকর্ডে এদিন দুইয়ে উঠে যান পেপ গার্দিওলা (১৯১)। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে (১৯০) পেছনে ফেলে তার সামনে কেবল কার্লো আনচেলোত্তি (২১৮)। তবে হারের রাতে বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় গার্দিওলাকে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এ স্প্যানিশ কোচ বলেন, “ওহ, সবাই আমাকে বরখাস্ত করতে চায়, তাই না? আমি একদিন নিজেই এসে বলবো, ‘বিদায় বন্ধুরা!’ তবে আমি এখনও আছি। আমার চুক্তির আরও এক বছর বাকি।”
চেলসির আত্মসমর্পণ, কোয়ার্টারে আর্সেনাল
ঘরের মাঠে সুবিধা করতে পারেনি চেলসিও। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে (পিএসজি) প্রথম লেগে ৫-২ গোলের হারের পর ফিরতি লেগে ব্লুুদের হার ৩-০ গোলে। কোনো ইউরোপিয়ান দুই লেগের ম্যাচে চেলসির ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের হার এটি। এবং ইউরোপিয়ান নকআউট টাইয়ে এবারই প্রথম আট-আটটি গোল হজম করলো ইংলিশ জায়ান্টরা! ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পিএসজিকে এগিয়ে নেন খিচা কাভারেস্কেইয়া। চতুর্দশ মিনিটে ব্রাডলি বার্কোলার গোলে ব্যবধান বাড়ে। বিরতির পর ৬২তম মিনিটে সেনি মেইয়ুলু আরেক গোল করতেই ফাঁকা হতে শুরু করে স্টামফোর্ড ব্রিজ। শেষ পর্যন্ত আগের কোনো গোল শোধও দিতে পারেনি স্বাগতিকরা। একই রাতে ঘরের মাঠে লেভারকুসেনের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ে তুলে নেয় আর্সেনাল। দুই লেগ মিলিয়ে গানারদের জয় ৩-১ গোলে। কোয়ার্টারে স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে খেলবে ইংলিশ জায়ন্টরা। সেই অর্থে রোমাঞ্চ দেখা যায় স্পোর্টিং সিপি ও বোডো/গ্লিমটের মধ্যকার ম্যাচে। প্রথম লেগে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা নরওয়েজিয়ান ক্লাবটি পর্তুগালে গিয়ে আর পারেনি। ফিরতি লেগে সিপির জয় ৫-০ গোলে। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমের পর এবারই প্রথম শেষ আটে উঠলো পর্তুগিজ ক্লাবটি।
