মিরপুরের উইকেট ও নাহিদ রানাকে নিয়ে যা বললেন আশরাফুল

মিরপুরের উইকেট ও নাহিদ রানাকে নিয়ে যা বললেন আশরাফুল

ফন্ট সাইজ:

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে সমালোচনা থেমেছে। চিরচেনা স্পিন উইকেটের স্থলে স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে সফল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গামিনি ডি সিলভার বিদায়ের পর প্রধান কিউরেটরের দায়িত্বে থাকা টনি হেমিং উইকেটে পরিবর্তন এনেছেন। আর পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। দুটি সিরিজ জয়ের পেছনে মিরপুরের ‘স্পোর্টিং’ উইকেটকে চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। গতকাল মিরপুরে নতুন উইকেটের পাশাপাশি পেসার নাহিদ রানার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। মিরপুরের মন্থর আর নিচু বাউন্স হওয়া উইকেটের দুর্নাম অনেক পুরোনো। তবে শেষ দুই সিরিজে এ চিত্র পাল্টে গেছে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের শেষ সিরিজে দু’দলই সমান সুবিধা পেয়েছে বলে মত আশরাফুলের। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল যে মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করা সম্ভব নয়। কিন্তু এবার পেসার, স্পিনার এবং ব্যাটার-সবাই সমান সহায়তা পেয়েছে।’ বাংলাদেশ দলে ঘনঘন খেলোয়াড় পরিবর্তনের সংস্কৃতি থাকলেও এই সিরিজ ছিল ব্যতিক্রম। তিন ম্যাচে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামে টাইগাররা। ব্যাটিং কোচ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘একাদশে এই ধারাবাহিকতা খুব ভালো একটি লক্ষণ। প্রত্যেক খেলোয়াড় এখন ছন্দে আছে।’ পুরো সিরিজ বাংলাদেশের জন্য সামগ্রিকভাবে খুব ভালো গেছে বলে জানান সাবেক টাইগার অধিনায়ক। আশরাফুল বলেন, ‘যারা কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছে, তারাই সফল হয়েছে। বিশেষ করে তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা পূর্ণ কর্তৃত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে, যা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৮ উইকেট শিকার করেন পেসার নাহিদ রানা। প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনকে একাই গুড়িয়ে দেন। উইকেট শিকারের পাশাপাশি গতিময় বোলিং সবার নজর কেড়েছে। নাহিদের এমন ফর্মে থাকা টাইগারদের জন্য জরুরি বলে মনে করছেন আশরাফুল। টাইগারদের ব্যাটিং কোচ বলেন, ‘গত দুই মৌসুম আমি রংপুরের (বিপিএল) সঙ্গে ছিলাম, আর দুবারই আমরা নাহিদ রানাকে দলে নিয়েছি। সেই সুবাদে খুব কাছ থেকে ওকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশ দলেও সে খেলছে। একজন ব্যাটার হিসেবে আমি সবসময় মনে করি, আপনার প্রতিপক্ষ দলে যদি ১৫০ কিলোমিটার গতির একজন বোলার থাকে, সেটা যেকোনো ব্যাটারের জন্য একটা আতঙ্ক।’ নাহিদকে স্কোয়াডে রাখার জন্য নির্বাচকদের আগেভাগে জানিয়ে রাখেন আশরাফুল। এই প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘নাহিদ রানা প্রতিদিন পরিশ্রম করছে, উন্নতি করছে। সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে অসাধারণ বল করেছে, বিপিএলেও ভালো বল করেছে। শান্ত ভাই, লিপু ভাইদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তাদেরকেও সবসময় বুঝিয়েছি ১৫০ গতির একজন বোলার দলে থাকলে দলের খেলোয়াড়দের জন্যও ভালো। কারণ তারা ভাববে ১৫০ কিলোমিটার গতির বল আমি খেলছি, আমার জন্য ম্যাচে খেলাটা সহজ হবে। নিজ দলের খেলোয়াড়দেরও এটা উপকৃত করবে (নাহিদ রানা থাকলে)।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন