লেবাননে খোলা আকাশের নিচে শত শত বাংলাদেশী, যুদ্ধে হারিয়েছেন কাজ-বাসস্থান

সহযোগীদের খবর

লেবাননে খোলা আকাশের নিচে শত শত বাংলাদেশী, যুদ্ধে হারিয়েছেন কাজ-বাসস্থান

ফন্ট সাইজ:

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘লেবাননে খোলা আকাশের নিচে শত শত বাংলাদেশী, যুদ্ধে হারিয়েছেন কাজ-বাসস্থান’। খবরে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের আঁচ লেগেছে লেবাননেও। ইসরায়েল দেশটিতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। এমন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত শত বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী সেখানে কাজ ও বাসস্থান হারিয়েছেন।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অনেক বাংলাদেশী এখন বৃষ্টি আর ঠাণ্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অনেকেই নারী। কেউ কেউ যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তা বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাকি পড়েছে বেতন, হাতে নেই কাজ। তার ওপর আছে মিসাইল কিংবা বিমান হামলার ভয়।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত বৃত্তে লেবানন জড়িয়ে পড়ার পর থেকে সেখানে ঘরবাড়ি ও কর্মসংস্থান হারিয়েছেন দেশটির কয়েক লাখ নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করা অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী। যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশী অবস্থান করছেন। তাদের অনেকে হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কাজ করেন। আর ইসরায়েল মূলত এ অঞ্চলেই হামলা চালাচ্ছে। তাই অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশী। তবে অর্থ আর আশ্রয়ের অভাবে তাদের দিন কাটছে খোলা মাঠে কিংবা রাস্তায়। অন্যদিকে রয়েছে হামলায় মৃত্যুর ঝুঁকি।

দক্ষিণাঞ্চলের সিয়াহ এলাকার আল আসাদ নামক স্থানে আশ্রয় নেয়া এমন ২৫ জন বাংলাদেশীর একটি দলের সঙ্গে সম্প্রতি যোগাযোগ হয়েছে বণিক বার্তার। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং কয়েকজন পুরুষ। যুদ্ধের তীব্রতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে তারা এখন খোলা আকাশের নিচে একটি মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এভাবে দিন কাটছে তাদের। শুধু এ ২৫ বাংলাদেশীই নন, এ রকম শত শত প্রবাসী বাংলাদেশী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চরম দুর্দশা আর ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তারা। আচমকা যুদ্ধের তীব্রতায় তারা হারিয়েছেন চাকরি এবং বাসস্থান। বিমান হামলা থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন খোলা মাঠ। আবার কেউ কেউ থাকছেন রাস্তায়, গাছের নিচে। অনেকে চলে গেছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ লেবাননের উত্তরাঞ্চলে।

আল আসাদ নামক স্থানে আশ্রয় নেয়া যে ২৫ প্রবাসীর সঙ্গে বণিক বার্তার যোগাযোগ হয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে কাজ করছেন। এদের মধ্যে আছেন কিশোরগঞ্জের বেদেনা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার, শিল্পী, রুবি, মরিয়াম, মরিয়ামের স্বামী হাবিবুর রহমান, আনোয়ারা ও তার বোন মনোয়ারা এবং মদিনা। এছাড়া মানিকগঞ্জের নূরজাহান, পাবনার সামিয়া আক্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলেয়া, ফরিদপুরের মালা, মুন্সিগঞ্জের রুমা, দিনাজপুরের জাকিয়া এবং কুমিল্লার ওয়াসিম, কিশোরগঞ্জের মোবারক, শামীম ও আশিক। আরো রয়েছেন ময়মনসিংহের নাছিমা আক্তার, রূপা ও নজরুল ইসলাম।

সিয়াহ এলাকায় ১৬ বছর ধরে বসবাস করছেন প্রবাসী রুমা আক্তার। তিনি সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘এখন আমরা মাঠে থাকি, বাড়িঘরে ঢুকন যায় না, কোনো নিরাপত্তা নাই। কাজকর্ম সবার বন্ধ, একটা মানুষেরও কাজ নাই। খাওয়া-দাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নাই, এ পর্যন্ত এত যুদ্ধ হইতেছে কেউ খবরও লয় না, কেউ কোনো খাবার দেয় না। একজনের খাওন ১০ জনে খায়, এক বেলা খাইলে দুই বেলা না খাইয়া থাকা লাগে। এ দেশে বৃষ্টি-ঠাণ্ডা। একটা খালি মাঠ আছে, সেই মাঠের ভিতর সবাই মিল্লা বইয়া থাকি। যুদ্ধ শুরু হইলে দৌড়াই, আবার পরিস্থিতি বুঝলে ফিরে আসি। এমনে রাস্তার ভিতরে আপ-ডাউন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা কইতাছে যুদ্ধ হইলে আপনারা আরেক এলাকায় যান। মানুষের কাছে টাকা পয়সা না থাকলে, কোনো সাহায্য না থাকলে কোন এলাকায় যাইব? ২০২৪ সালের যুদ্ধে আমার হাত ভাইঙ্গা লাইছি। কোনো সাহায্য পাই নাই। নিজে দেনা কইরা এই দেশে অপারেশন করছি।’

বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের দাহিয়ে এলাকায় কাজ করতেন কিশোরগঞ্জের বেদেনা আক্তার। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কর্মস্থল ছেড়ে বর্তমানে সিয়াহ এলাকায় এসেছি। এখানে আমরা প্রায় ২৫ জন প্রবাসী আছি। এর মধ্যে কয়েকজন পুরুষও আছে। দিনের বেলায় আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে রাতে সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়ে খোলা মাঠে বসে থাকি। রোববার (১৫ মার্চ) রাতে যেমন ছিল বোমাবর্ষণ, তেমন ছিল বৃষ্টি আর ঠাণ্ডা। খুব কষ্ট হচ্ছে এখানে। কিন্তু কোথাও যেতেও পারছি না।’

অর্থের অভাবে খোলা মাঠে দিন পার করছেন বলে জানান মানিকগঞ্জের নূরজাহান। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো লোকজন নেই। দোকানও বন্ধ। আমরা তিন-চারদিন পর একদিন গোসল করি। খাওয়া-দাওয়াও ঠিক নেই। কষ্ট করে একজনের খাবার কয়েকজনে মিলে খাচ্ছি।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত এ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে কেন যাচ্ছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব এলাকা নিরাপদ আছে সেখানে গিয়ে থাকার মতো অবস্থা নেই। কাজ করতে পারছি না। আয়-রোজগারও নেই। এ অবস্থায় সেসব এলাকায় গিয়ে একটা রুম নিয়ে তার ভাড়া দেয়া সম্ভব না। তাই এখানে খোলা মাঠে সবাই মিলে দিন কাটাচ্ছি।’

যুদ্ধের শুরুর দিকে বৈরুতের দাহিয়ে এলাকায় হঠাৎ বোমা হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যে রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন তার সামনে বিস্ফোরণের পরপরই প্রাণ বাঁচাতে কাজ ফেলে স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানকে নিয়ে গভীর রাতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এখলাসুর রহমান। তিনি জানান, তার ছিল নাইট ডিউটি। কাজের জায়গা থেকে ছুটে গিয়ে শিশুসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মাঝরাতে বের হয়ে যান। দাহিয়ে এলাকা থেকে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে আশ্রয় নেন।

এখলাসুর বণিক বার্তাকে জানান, যে মালিকদের কাছে কাজ করতেন, যুদ্ধের কারণে তাদের ভবন রকেট হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বেতন পাননি। তার প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার পাওনা আটকে আছে। সেই টাকা পেলে অন্তত কয়েক মাস চলতে পারতেন। কিন্তু এখন নিজের, স্ত্রী ও শিশুর প্রয়োজনীয় কাপড় পর্যন্ত সঙ্গে নেই। সামনে কীভাবে চলবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

মাজদা গাড়ি কোম্পানিতে ক্লিনার হিসেবে কাজ করেন প্রবাসী বারেক হাসান। তিনি জানিয়েছেন বর্তমানে একটি গাছের নিচে কাটছে তার দিনরাত। তার স্ত্রী আরেক জায়গায় কয়েকজন বাংলাদেশী নারী কর্মীর সঙ্গে থাকছেন। বণিক বার্তাকে নিজের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বারেক বলেন, ‘১৫ দিন ধরে আমি ঘরে ঘুমাইতে পারি না। সিয়াহ এলাকার বাসা থেকে আমাদের বাইর করে দিছে। এখন রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে থাকি। প্রচুর বৃষ্টি আর ঠাণ্ডা, দুইদিন ধরে মসজিদের ভিতর ঘুমাই। আমার বউ অন্য জায়গায় কয়েকজন বাঙালি মহিলার সঙ্গে থাকে। আমাদের যাওয়ার জায়গা নাই, ঘর ভাড়া অনেক। মিসাইল এক কিলোমিটার দূরে পড়লেও সব কাঁপে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দা অ্যাফেয়ার্স এআই ও প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গত যুদ্ধের পর থেকেই বাংলাদেশীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রবাসীরা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের বেশির ভাগ কর্মী কৃষি খামার এবং বাড়িতে কাজ করেন। আক্রমণগুলো মূলত কয়েকটি শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় যারা প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করতেন তারা এখনো অনেকটা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, আমরা তাদের বৈরুতের দিকে নিরাপদ স্থানে চলে আসতে বলছি এবং গাড়ির ব্যবস্থাও করছি। তবে অনেকে আসতে রাজি হচ্ছেন না, তারা পরিচিত পরিবেশে থেকেই পরিস্থিতি দেখতে চাইছেন।’

বাস্তুচ্যুত হওয়ায় প্রবাসীদের খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লেবাননের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জায়গায় শেল্টারের ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু আমাদের লোকজন সেখানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে তারা পরিচিত বাংলাদেশী কমিউনিটির কাছাকাছি থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। যখনই আমরা কোথাও খাবার বা অন্য সমস্যার তথ্য পাচ্ছি, মোবাইল টিম পাঠিয়ে খুঁজে খুঁজে তাদের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করছি। স্থানীয় এনজিও এবং লোকাল অথরিটির সঙ্গেও সমন্বয় রাখছি। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাস্তাঘাটে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।’

প্রথম আলো

স্বস্তিতে শুরু ঈদযাত্রা, বাস– ট্রেনে বাড়তি চাপ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। মানুষের ভিড় দেখা গেছে রাজধানী ঢাকার বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে। দূরপাল্লার পথে মহাসড়কে এখনো তেমন কোনো যানজটের ভোগান্তি শুরু হয়নি।

অবশ্য গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ধীরগতির যানজট দেখা যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর থেকে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের কবিরপুর এলাকা থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার যেতে সময় লাগছে এক ঘণ্টার বেশি।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর চাপ আরও বেড়ে যায়। কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ধীরগতির যানজট রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।’

উত্তরের পথে নির্মাণকাজের কারণে কিছুটা ভোগান্তি আছে ঢাকা-আশুলিয়া উড়ালসড়কে। সিলেটের পথে আশুগঞ্জে নির্মাণকাজ ও খানাখন্দও যানবাহনের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। ঢাকা থেকে বের হয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে জটলা তৈরি করছে স্থানীয় যানবাহন ও বাস; যা যানবাহনের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। দক্ষিণের পথে ফরিদপুরের পর মহাসড়ক তুলনামূলক সরু, সেখানেও গতি কমে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও পরিবহনমালিক-শ্রমিকেরা বলছেন, গতকাল থেকে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যানবাহনের প্রকৃত চাপ শুরু হয়েছে। তবে এটি আরও বাড়বে। আজ বুধ ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সড়কে চাপ বেড়ে গেলে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।

এবার ঈদ উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি পাওয়া গেছে। গত সোমবার ছিল শেষ কর্মদিবস। তবে সোমবার রাতে ছিল পবিত্র লাইলাতুল কদর। ছুটি পেলেও মানুষ সোমবারের বদলে মঙ্গলবার বেশি ছুটেছেন। গত বছর ঈদুল ফিতরে টানা ৯ দিনের ছুটি ছিল। ফলে সড়কে দুর্ভোগ কিছুটা কম হয়েছে। তবে ঈদের আগের দুই দিন অব্যবস্থাপনা ও যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল। এবার ঈদের আগের দুই দিন ব্যবস্থাপনার ঘাটতি হলে দুর্ভোগের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরিবহন খাতের সূত্রগুলো বলছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের শুরু হয় একেবারে যাত্রার শুরু থেকে। প্রথমত, ঈদের আগের শেষ চার দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়েন। ট্রেন, বাস ও লঞ্চে এত বিপুলসংখ্যক যাত্রীর যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই। ফলে ঈদযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত যানের টিকিট পাওয়া এবং যাত্রা শুরু করাটাই প্রথম বিড়ম্বনা। এরপর রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে ভোগান্তি হয়। আছে বাড়তি ভাড়ার চাপ। এবার ঢাকা থেকে প্রতিদিন আন্তনগর ট্রেনে মাত্র ৩৫ হাজার যাত্রী যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে মূল চাপ পড়ছে সড়কেই।

২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে সমীক্ষা করছেন। সমীক্ষা অনুযায়ী, ঈদের আগের চার দিনে ঢাকা ছাড়েন ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। সেই হিসাবে ঈদের সময় প্রতিদিন গড়ে বাড়ি যান ৩০ লাখ মানুষ। কিন্তু ঢাকাকেন্দ্রিক যে গণপরিবহনব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলো দিয়ে বড়জোর দিনে ২২ লাখ মানুষ পরিবহন করা সম্ভব।

ঈদের আগের কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে ৮ লাখ মানুষ বাস-মিনিবাসে, ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ ট্রেনে বসে ও দাঁড়িয়ে এবং সোয়া লাখ মানুষ লঞ্চে যাতায়াত করেন। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাড়ি যান সাড়ে সাত লাখ মানুষ। মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রায় শামিল হন চার লাখ মানুষ।

সমীক্ষা বলছে, আরও আট লাখ মানুষ ট্রাক, অটোরিকশাসহ নানা অপ্রচলিত বাহনে ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করেন। এর বাইরে কিছু মানুষ উড়োজাহাজেও যাতায়াত করেন।

অধ্যাপক হাদীউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, গতবার লম্বা ছুটি দিয়ে দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও তা-ই করা হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বাড়ি পাঠানোর মতো যানবাহন নেই। এটা এবারও ভোগাবে। এ ছাড়া প্রতিটি সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কিছু যন্ত্রণা আছে। এটা এড়ানো যাবে না।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘এক মাসে অর্থনৈতিক পদক্ষেপ: সরকারের দূরদর্শিতার পরিচয় মিলেছে’। প্রতিবেদেনে বলা হয়, অর্থনৈতিক মন্দা ও সংকটের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয় নিয়ে বিএনপি ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর মাত্র ১০ দিনের মাথায় শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। দীর্ঘ মন্দা ও প্রবল সংকটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। প্রথম ধাক্কা আসে জ্বালানি তেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি উপকরণ, জাহাজ ভাড়া, দেশের ভেতরে পণ্য পরিবহণের ভাড়া বেড়ে যায়। বাড়তে থাকে ডলারের দাম। এতে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতির হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন বাস্তবতায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দু-একটি বাদে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও হয়। তবে বিদ্যমান ও যুদ্ধের প্রভাবে আগামীতে সরকারকে যে আরও ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে সেটিকে স্বীকার করেই সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ওই সময়ে দেশে প্রায় সব খাতেই হয়েছে নজিরবিহীন লুটপাট। ব্যাংক দখল করে অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার হয়েছে। রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন (১০০ কোটিতে এক বিলিয়ন) ডলারের নিচে। প্রবৃদ্ধি ছিল নিম্নমুখী। বিনিয়োগে ছিল মন্দা। বেকারত্ব প্রকট আকার ধারণ করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাংক লুট ও টাকা পাচার রোধ করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। রিজার্ভকে ঊর্ধ্বমুখী করা হয়। কিন্তু অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পারেনি। বিনিয়োগ বাড়াতে পারেনি, ফলে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়নি। প্রবৃদ্ধিও ছিল নিম্নমুখী। অর্থনৈতিক এমন নেতিবাচক পরিস্থিতিতেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। দীর্ঘ বঞ্চনার পর বর্তমান সরকারের কাছে মানুষের আকাশসম প্রত্যাশা। এসব প্রত্যাশা পূরণে সরকারের জন্য রয়েছে পাহাড়সম সমস্যা। ক্ষমতা গ্রহণের ১০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ সংকট সরকারের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ভালোভাবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব শুরুর ৮ দিনের মাথায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী মোস্তাকুর রহমানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগ নিয়ে প্রথম কিছুটা বিতর্কের মুখে পড়ে সরকার। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মূল্যস্ফীতির হারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেও নীতি সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ নিয়ে গভর্নরও সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি নীতি সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়াটি পিছিয়ে দেন। আবার গভর্নর যোগ দেওয়ার ২ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে যায়। গ্যাসের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়। অন্যান্য পণ্যের দামও হয়ে ওঠে ঊর্ধ্বমুখী। পণ্য পরিবহণে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়। এতে আমদানি ব্যয় যেমন বাড়তে শুরু করে, তেমনি পণ্যের দামও বাড়তে থাকে, যা অব্যাহত রয়েছে।

কালের কণ্ঠ

হিসাবি খরচেও অর্থনীতিতে গতি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঈদে সব স্তরের মানুষই কমবেশি কেনাকাটা করে। ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের বাজারে কেনাকাটার উৎসব চললেও এবার ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা ও হিসাবি মনোভাব দেখা যাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের প্রভাবে পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাইরে বাড়তি খরচ কমিয়ে দিয়েছে অনেকে। অন্যদিকে কেনাকাটায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তবে স্থবির অর্থনীতিতে ‘হিসাবি’ কেনাকাটায় কিছুটা গতিসঞ্চার করেছে। আশার কথা হলো, প্রতিবছর তৃণমূলে ঈদের আনন্দে বাড়তি উৎসাহ জোগানো প্রবাসীদের আয়ে এবারও ঘাটতি হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মধ্যেও প্রবাসীরা পরিবারের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৭ শতাংশ বেশি।

চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন ১৫.৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০০ কোটি ডলার। বছরের ব্যবধানে প্রবাস আয় বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ।

বাজারের চিত্র ও ক্রেতাদের মনোভাব: ঈদ মানেই বিপুল অর্থের লেনদেন।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাধারণত ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে দুই লাখ কোটি টাকার বেশি বাজার তৈরি হয়। অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১১ সালে ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের পক্ষ থেকে রোজা ও ফিতরের অর্থনীতি নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তখনই এর আকার ছিল প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে তা প্রায় দুই লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ কোটি টাকাই ব্যয় হয় কাপড়চোপড় কেনাকাটায়, বাকিটা বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও কনজিউমার ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিসপত্রে।

এর সঙ্গে রয়েছে যাতায়াত, জাকাত আর বকশিশের ব্যয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ কেনাকাটাই হয় নগদে, যদিও ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন ধীরে ধীরে বাড়ছে। রোজার ঈদ তাই বাংলাদেশের প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে। যদিও ক্রীত পণ্যের অনেকটাই বিদেশ থেকে আমদানি করা, তবে ক্রমাগত দেশি পণ্যের কদর ও বিক্রি বাড়ছে। ঈদের অর্থনীতি ক্রমাগত বড় হচ্ছে। তবে স্থানীয় পণ্যের ব্যবহার আরো বাড়া উচিত।’

রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন শপিং মল ও ফুটপাতে ঈদ উপলক্ষে চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পোশাকের পাশাপাশি পাকিস্তানি ও ভারতীয় থ্রি-পিসের চাহিদা তুঙ্গে। পুরুষদের মধ্যে রঙিন পাঞ্জাবি ও শার্টের বিক্রি ভালো। পোশাক ছাড়াও ফ্রিজ, টিভি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, স্মার্ট ওয়াচ, স্মার্টফোন, ইয়ারবাডসের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। ক্রেতারাও সেটা বুঝতে পারছে। ফলে তারা কেনাকাটায় কিছুটা সতর্ক।

শাহবাগের একটি বিপণিবিতানে কথা হলো মিরপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে আছে। ওদের জন্য পাঞ্জাবি কিনেছি। মা-বাবা ও স্ত্রীর জন্য পোশাক কিনেছি।’

সমকাল


দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আমদানিনির্ভর সারে নতুন চাপ’। খবরে বলা হয়, মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে সার ও এর কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে সারের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

এ পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশও নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। দেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। এর বড় অংশ আমদানি করতে হয়। গ্যাস সংকটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে পাঁচটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সংকটের আশঙ্কা নেই। জুনের পর সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে- এমন আশঙ্কায় পাঁচ লাখ টন ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার।

অনিশ্চয়তায় ডিএপি আমদানি

দেশে কৃষি উৎপাদন অনেকটা রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুসারে সারের চাহিদা ৬৮ থেকে ৬৯ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ টন। এরপর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে জটিলতায় সৌদি আরব থেকে ডিএপি আমদানি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টনের এক লট ডিএপি আমদানির কথা ছিল। সেটি আপাতত না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির দাবি, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় মার্চে নতুন করে ডিএপি আমদানির প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প উৎস দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিএডিসি মূলত সৌদি আরব, চীন ও মরক্কো থেকে এসব সার আমদানি করে। গত বছর চীন থেকে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিএপি আমদানি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের একটি কোম্পানির সঙ্গে বছরে ছয় লাখ টন ডিএপি আমদানির চুক্তিও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে চীন ও মিসর বাংলাদেশকে ডিএপি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে দুবাই থেকেও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে সরকার আলোচনা করছে।

ইত্তেফাক

এক দশকে বাংলাদেশের কর্মক্ষম প্রায় অর্ধেক তরুণ চাকরি পাননি: বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ। কিন্তু কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ তরুণের। অর্থাত্ কর্মক্ষম বয়সের প্রায় অর্ধেক তরুণ চাকরি পায়নি। তরুণীরা এক্ষেত্রে আরো বড় বাধার মুখে পড়েছেন। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই কথা বলেন। তিন দিনের সফর শেষে তিনি গতকাল ঢাকা ত্যাগ করেন। সফরকালে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহায়তা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জোহানেস জাট বলেন, সরকার বৃহত্ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপও অগ্রাধিকারে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে যুবক ও নারীদের জন্য চাকরি তৈরির সরকারি অগ্রাধিকারে সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে।

জোহানেস জাট আরো বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বিদ্যমান মৌলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

বিশ্বব্যাংক সদস্য দেশগুলোকে এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি স্থানীয় কর্মসংস্থানে রূপ নেয়। বৃহত্ পরিসরে কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে বিশ্বব্যাংক ভৌত ও মানবিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা দিচ্ছে এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করছে।

স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক অন্যতম। সংস্থাটি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘পরীক্ষামূলক ফার্মার্স কার্ড পাবেন ২২ হাজার কৃষক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আগামী পয়লা বৈশাখে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১১ উপজেলায় ২২ হাজার কৃষকের মধ্যে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বিতরণ করবে সরকার। ওই দিন টাঙ্গাইল সদর এলাকায় পরীক্ষামূলক এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফার্মার্স কার্ড-বিষয়ক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।

তিনি আরো বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণীর কৃষককে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য কিনতে পারবেন।

টাঙ্গাইল ছাড়া অন্য উপজেলাগুলো হলো পঞ্চগড় সদর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ও মৌলভীবাজারের জুড়ী।

বৈঠক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরো স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেয়া সম্ভব হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, এজিইডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আজকের পত্রিকা

ঈদযাত্রা: মহাসড়কে দিনে স্বস্তির যাত্রা, রাতে যানবাহনের চাপ’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের ছুটির প্রথম দিনেই কর্মস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখী মানুষের সংখ্যা ব্যাপক বেড়েছে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। দিনে মহাসড়কে তেমন যানজট না থাকায় স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরেছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে রাতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নবীনগর-চন্দ্রা ও সফিপুর-চন্দ্রা অংশে কয়েক কিলোমিটারে জট ও ধীরগতি দেখা দেয়।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল ঈদযাত্রা বলতে গেলে শুরু হয়েছে গত সোমবার বিকেল থেকে। সেদিন ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে অফিস থেকে অনেকে আগেভাগে বেরিয়ে ঘরমুখী হয়েছেন। রাতেও অনেকে গেছেন। তবে এবার ঈদের আগে ছুটি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ গত সোমবার এবং গতকাল মঙ্গলবারও দেখা যায়নি।

আজকের পত্রিকার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তির আশঙ্কা করা হলেও গতকাল তেমন জট হয়নি। যানবাহনের চাপ অনেক বাড়লেও যমুনা সেতু-সিরাজগঞ্জ অংশে গতকাল পর্যন্ত বড় যানজট হয়নি। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা আগের দিনের পারাপার হওয়া যানবাহনের তুলনায় ১০ হাজারের বেশি।

উত্তরাঞ্চলমুখী যাত্রীদের চাপে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কেও যানবাহন বেড়েছে। পদ্মা সেতুতেও দক্ষিণাঞ্চলমুখী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া টোল প্লাজায় সকাল থেকে বাস ও মোটরসাইকেলের চাপ দেখা গেছে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। সেতু বিভাগ জানায়, সোমবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত আট ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার ৬০০ যানবাহন পদ্মা সেতু পারাপার হয়েছে।

বাসে যেতে না পেরে নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন। তাঁদের একজন সাজিদ। তিনি সিরাজগঞ্জ যেতে সকালে বাস না পেয়ে ৪০০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে যাচ্ছেন। তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক রফিক বলেন, বাসের তুলনায় ভাড়া কম হওয়ায় বাড়ি যেতে পরিবারসহ ট্রাকে উঠেছেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীর চাপ বাড়ছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট না থাকায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও আশপাশের কাউন্টার থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো মোটামুটি নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি পুলিশের’। খবরে বলা হয়, ঈদে প্রতি বছর শহর থেকে গ্রামে যায় লাখ লাখ মানুষ। ঈদের ছুটির আগে ও পরে বেশ কয়েকদিন রাজধানী কার্যত ফাঁকা থাকে। এবারও ঈদের লম্বা ৭ দিনের ছুটিতে (১৭ থেকে ২৩ মার্চ) গ্রামে ছুটছে মানুষ। এ সময়ে ঢাকায় অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা করছে নগরবাসী। কারণ কর্মময় ও ব্যস্ত রাজধানী তখন অরক্ষিত থাকবে। ছুটির পর আবার এ শহর ফিরবে তার চিরচেনা রূপে। কিন্তু যতদিন মানুষ না ফেরে ততদিন নানা শঙ্কার মধ্যেই কাটাতে হবে নগরবাসীকে।

ফাঁকা ঢাকায় চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি বেড়ে যেতে পারে; এ আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা জোরালো করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাজ করে। পুলিশ, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ২৪ ঘণ্টা তৎপর থাকলেও এ সময়ে নগরবাসী আতঙ্কে থাকে।

ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের আগে-পরে ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেছেন, ‘ঈদের ছুটিতে রাজধানী থেকে যাওয়ার সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত স্থানে রেখে যাবেন। সম্ভব হলে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় রেখে যান। কারও যদি ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন না থেকে থাকে তাহলে পুলিশের সহায়তা নেওয়া যাবে। চাইলে থানায় স্বর্ণালংকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রাখা যাবে।

বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি : ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত ডিএমপি। ঢাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারির ও চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। ঈদ উদযাপন করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ রেখে বাড়ি ফেরায় ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে শঙ্কিত নগরের অধিবাসীরা। বিশেষ করে জনশূন্য আবাসিক এলাকাগুলোতে অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাবে বলে অনেকেই উদ্বিগ্ন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন