সংসদে দাঁড়িয়ে হুইপ জি কে গউছ সিলেট সম্পর্কে যে ভাষণ দিয়েছেন সেটি সংসদের সীমানা ছাড়িয়ে এখন ভাইরাল। ফেসবুকে ভেসে বেড়ানো তার ভিজ্যুয়াল বক্তব্যে চোখ আটকে যায় সবার। সিলেটের উন্নয়নের কথা বলছেন জি কে গউছ। তাও আবার জোরালো কণ্ঠে। হুইপ শুধু এটিই করেননি, নিজ কার্যালয়ে তিনি সিলেটের এমপিদের নিয়ে ইফতার করেছেন। প্রাথমিক কিছু আলাপ সেরে রেখেছেন। রমজানের একদিন আগেই ক্ষমতায় বসে বর্তমান সরকার। বয়স এক মাস ছুঁইছুঁই। কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশ্লেষণের কোনো সুযোগ নেই। বিগত ১৭ বছর ধরে সিলেট অবহেলার শিকার। সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর সৌজন্যে সুনামগঞ্জে উন্নয়ন হয়েছে। অপর তিন জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ ছিল অন্ধকারে। অন্তর্বর্তী সরকারও সিলেটের দিকে ফিরে চায়নি। বেশি কিছু চায় না সিলেটবাসী। প্রথম প্রায়োরিটি দিচ্ছে যোগাযোগকেই। এরপর অন্যকিছু। ঢাকা-সিলেট রুট সিলেটবাসীর গলার কাঁটা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। কোথায় গিয়ে ঠেকে বলা মুশকিল। এ প্রকল্পের কাজ ৩০ ভাগও হয়নি। এন্তার ঝামেলা। পিডি আসেন পিডি যান। কিন্তু গতি বাড়ে না এ প্রকল্পের। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন- ৬ লেনের এ সড়কের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে। এখন অর্ধেক ভূমিই অধিগ্রহণ হয়নি। বিদেশি কোম্পানির কাজ। জমি না পেয়ে বসে বসে তারাও টায়ার্ড। তারা বলছেন- বিগত সরকারের সময় এ প্রকল্পের কাজের তদারকি কম ছিল। জনপ্রতিনিধিরাও চুপ ছিলেন। এ কারণে লেগে যাওয়া জট এখনই বড় সমস্যা।
সড়ক পথের মতো আকাশ পথ নিয়ে সিলেটবাসীর আফসোসের অন্ত নেই। ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় ঠেকেছে ডমেস্টিক ফ্লাইটে ভাড়া। বার বার বৈঠক করেও কাজ হয় না। পাশাপাশি এয়ারপোর্টের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বড় সমস্যা। বিগত সরকারের সময় দু’হাতে দুর্নীতি করেছেন রাষ্ট্র্রের হর্তা-কর্তারা। শতশত কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখছে দুদক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সিলেটের আকাশ উন্মুক্ত হচ্ছে না বাইরের দেশের উড়োজাহাজ কোম্পানির জন্য। বিমানের কাছে জিম্মি সিলেটের মানুষ। গত সরকার তো রেলপথ উন্নয়নে কোনো প্রস্তাবনাতেই কান দেয়নি। ১৯৯৬ সালে কথা। তখন রাষ্ট্র্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। সিলেট উন্নয়নের চাবি প্রয়াত স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কাছে। গুড স্টার্ট করেন তিনি। স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনার কাজ শেষ করেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মাঝখানে প্রয়াত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান সিলেটে ম্যাসিভ উন্নয়ন করেন। যে উন্নয়ন অতীতে কেউ করতে পারেননি। এবার সিলেট উন্নয়নের দায়িত্ব দুই মন্ত্রীর কাধেই।
একজন বস্ত্র, পাট ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও অপরজন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও হুইপ জি কে গউছ। এরই মধ্যে সিলেট উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। তবে স্টার্ট হবে কোথায় থেকে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আগামী সিলেট ভাবনায় কী আছে পরিকল্পনা সেটিও পুরোপুরি প্রকাশ হয়নি। নির্বাচনী ইশতেহারে যা আছে সেগুলো নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন- রহজানের একদিন আগেই ক্ষমতায় নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঈদের পর সিলেটকে নিয়ে আমরা যারা মন্ত্রী. এমপি আছি সবাই বসবো।
সিলেট উন্নয়নের ব্যাপারে বিভাগের ১৮টি আসনের সংসদ সদস্য একসঙ্গে বসে সিদ্বান্ত নিয়ে কাজ করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এদিকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র্র উপদেষ্টা হওয়ার পর প্রথম বারের মতো গত সপ্তাহে সিলেট সফর করেন হুমায়ুন কবির। সিলেটের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনেই ছিলেন। তিনি সিলেট সফরকালে একটি সুখবর দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে রেলওয়ে মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে তার। সিলেট-ঢাকা রেলপথের উন্নয়নে কী কী করা যায় সে বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরী হচ্ছে। খুব শিগগিরই নিয়ে আলোচনা এবং প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। দ্রুততম সময়ে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়ে গেছেন তিনি।

Monir
২ মাস আগেlondon - sylhet = 8 hours
sylhet - dhaka = 8 hours
-- what a development last 17 years !!