বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সবশেষ নির্বাচনে ‘অনিয়ম, কারচুপি ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ তদন্তে গত বুধবার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। এনএসসি’র করা এই তদন্ত কমিটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বিসিবি। এনিয়ে সোমবার তারা একটি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারা জানিয়েছে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ক্রিকেট বোর্ডের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এমন কোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে সুশাসন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।’ এসবের মাঝেই বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে আরও একটি তদন্ত কমিটি করেছে এনএসসি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন,‘বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানেও তদন্ত হবে। সংগঠকদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা খতিয়ে দেখা হবে। মিরপুরের বাংলা স্কুলে গিয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়ে আমিনুল বলেন, ‘আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি যে বিশ্বকাপ হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে আমরা সেই বিশ্বকাপটি খেলতে যেতে পারিনি। কিন্তু কেন এটি হয়েছে সেটিও আসলে তদন্ত করে দেখার বিষয় রয়েছে। এবং আমি আশা করি যে এই বিষয়গুলো নিয়েও আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো।
এতে করে পরবর্তীতে যে কেন আমরা বিশ্বকাপ খেলতে গেলাম না, আমাদের কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাব ছিল, সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তীতে আসলে আমি এগুলো প্রতিবেদন আকারে ক্রিকেট বোর্ড এবং যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কাছ থেকে আমি অবশ্যই চাইবো।’ মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার জেরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বিসিবি। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই এই অবস্থান নেয় তারা।
ক্রিকেটার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ার সমালোচনা করে আসছিল। তারা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ক্রিকেটারদের অবস্থান জানানোর পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা বললেন আমিনুল, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের ‘কোয়াব’ মিঠুনের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের একটি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কথাগুলো শুনেছি। আশ্বস্ত করেছি যে ঈদের পরে কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ পদক্ষেপ নেবো।’
এদিকে বিসিবি’র নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত চলমান থাকবে ও আইসিসি’র সঙ্গে কথা বলেই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। এবং এটি আপনারা সকলেই জানেন, এগুলো নতুন করে আসলে বলার কিছু নেই। সঠিক যেটি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে। যারা বিগত সময়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের সঙ্গেও তদন্ত কমিটি কথা বলবে। বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলবে।
পাশাপাশি যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গেও কথা বলবে। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জানি যে যখন বিগত নির্বাচনের সময় ডিসিরা একবার অলরেডি কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বুলবুল ভাইয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আবার দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর পাঠিয়েছেন। এটি তো একদম দৃশ্যমান সত্য ঘটনা। আইসিসি’র সঙ্গে কথা বলেই সকল সিদ্ধান্ত নেবো।’

mozam hoq
২ মাস আগেএই ব্যাপারে বেশি ফাল পাইরেননা। দেশের সন্মান বেড়েছে বয়কট করায়