২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে সেই অতন্দ্র প্রহরীর কথা মনে আছে? টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের দু’-দু’টি পেনাল্টি ঠেকিয়ে দুই যুগ পর আলবিসেলেস্তেদের ফাইনালে তুলেছিলেন যিনি? আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য সেসব এখন স্মৃতি। সেই সের্হিও রোমেরো দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি কিন্তু তারই!
তবে আর্জেন্টাইনদের কাছে ‘চিকিতো’ নামে পরিচিত রোমেরো শুধু গোলপোস্টই ছাড়ছেন, ফুটবল নয়। ফুটবল বিশ্লেষক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির মতে, ইতিমধ্যে তিনি নিজের কোচিং স্টাফ গুছিয়ে নিয়েছেন এবং খুব শিগগিরই ডাগআউটে কোচ হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে রেকর্ড ৯৬টি ম্যাচ খেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী রোমেরো। ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত জাতীয় দলের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন তিনি। ডাচ্দের বিপক্ষে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিতে সেই অনন্য কীর্তি হয়তো এখনও চোখে ভাসে আর্জেন্টাইনদের। ইন্টার মায়ামির বর্তমান কোচ ও রোমেরোর সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের মাসচেরানো টাইব্রেকারের আগে তাকে বলছিলেন, ‘তুমি আজ নায়ক হয়ে যাবে’। সত্যিই সেদিন নায়ক বনে যান রোমেরো। রন ভ্লার ও ওয়েস্লি স্নাইডারের পেনাল্টি ঠেকিয়ে বুনো উল্লাসে মাতেন তিনি। ২০০৭-এ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং পরের বছর বেইজিং অলিম্পিকে লিওনেল মেসির সঙ্গে স্বর্ণপদক জেতেন রোমেরো। রেসিং ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে নেদারল্যান্ডসের এজেড আলকমার, সাম্পদোরিয়া ও মোনাকো পেরিয়ে তিনি থিতু হন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। রেড ডেভিলদের হয়ে ব্যাকআপ গোলকিপার হিসেবেও ৬১ ম্যাচে ৩৯টি ক্লিনশিট রাখার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন তিনি। ২০১৭তে ইউনাইটেডের ইউরোপা লীগ জয়ে বড় অবদান রাখেন এ আর্জেন্টাইন তারকা।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোমেরোর শেষের শুরুটা হয় ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে। চোটের কারণে ছিটকে গেলে পরে আর জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি তার। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে বোকা জুনিয়র্স ও সবশেষে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে খেলে বিদায় নিলেন রোমেরো।
আর্জেন্টিনার রেকর্ড ম্যাচ খেলা গোলকিপারের বিদায়
স্পোর্টস ডেস্ক
১৮ মার্চ (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
