একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল ইসিতে হাজির হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টার পর তারা ইসিতে আসেন। পরে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজ আমাদের কয়েকটি অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। আমরা ভেবেছি বিষয়টি ইসিকে জানানো দরকার, যাতে এই ধরনের পূনরাবৃত্তি না ঘটে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের অভিযোগ গুলোর একটি হচ্ছে সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে একজনের কাছে মোটা অংকের টাকা পাওয়া গেছে। আমরা ন্যায় অন্যায়ের বিচার করছি না, কিন্তু এটা যে সময়ে ঘটেছে সেটি প্রশ্নবোধক হয়ে রয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, চাপাইনবয়াবগঞ্জে টাকা বিতরণকালে জামায়াত নেতা আটক, সিরাজগঞ্জের ভোট কোনার সময় জনগণের হাতে জামায়াত নেতা আটক, বরগুনা ২ এ টাকা এবং অস্ত্রসহ ২ জন আটল, নোয়াখালীতে টাকা এবং হ্যান্ডবেল্টসহ আটক, ময়মনসিংহে সাবান শ্যাম্পু বিতরণের সময় আটক, চট্টগ্রাম ৯ এ জামায়াত নেতা কর্তৃক চাল,ডাল, তেল বিতরণকালে আটক, রাজশাহীতে টাকা নিয়ে ভোট কিনতে আসা জামায়ত নেতা আটক, সিলেট খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মসলেহ উদ্দিনের পক্ষে অর্থ বিতরণকালে জামায়াত নেতা আটক, ফেনী ১ এ জামায়াত প্রার্থীর এক নারী ভোটারকে টাকা দেয়ার ভিডিও আটকসহ এরকম বেশকিছু খবর এবং ভিডিও ইসিতে আমরা দিয়েছি। আমরা বলেছি আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার আপনারা সেটি করেন। আপনারা জনগণকে আশ্বস্ত করেন। এই ধরণের কর্মকান্ড যেন যেন কেউ না করে সেজন্য একটা হুশিয়ারি দেওয়ার জন্য।
এসময় তিনি ইসি সচিবের বলা বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫ কোটি টাকা বহনেও বাধা নেই’- এই ধরণের কথায় খুবই বিব্রত বলে উল্লেখ করেন। সবই যদি এমন হয়, তাহলে কেন আপনারা বললেন বিকাশে একদিনে এক হাজারের বেশি পাঠানো যাবে না? উদ্দেশ্য ছিলো এই সময়ে যাতে ভোট কেনা বেচার জন্য টাকা এভাবে বিলি না হয়। যদি তা সত্যি হয়, তবে আপনার এ ধরণের কথা বলা দরকার কী? তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমরা ইসি সচিবকে জিজ্ঞেস করার পর তিনি আমাদের বলেন, তিনি কখনই এরকম কোনো কথা বলেন নি।
ঢাকায় জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। যে করেছে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক। প্রতিনিধিদলের মধ্যে অন্যরা হলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য গিয়াসউদ্দিন রিমন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন সাথে বৈঠক করে তারা ইসিতে আসেন। এরআগে সন্ধ্যায় ১১ দলীয় জোটের পক্ষে বৈঠক করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদসহ কয়েকজন প্রতিনিধি।
