বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ করবে না বলে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। এই সরকারে কাছে জাতীয় নিরাপত্তাও গুরুত্ব পাবে বলে তারা আশা করেন। দেশে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে যে দল জিতবে বা পরাজয়বরণ করবে তা মেনে নেয়ার প্রত্যাশাও রাখেন নাগরিকরা। তারা বলেন, যেভাবে মানুষ উৎসব উৎসবভাবে রাজধানী ছেড়ে ভোটের উদ্দেশে বাড়ি যাচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষগুলো এই দিনটির জন্যই অপেক্ষায় করছিলেন।
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (ঋঝউঝ) উদ্যোগে সিটিজেনস ফোরামের সহযোগিতায় বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ঢাকাস্থ কূটনৈতিক সমাজের সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সম্পর্কে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এফএসডিএস’র বিশেষজ্ঞ পরিষদের বিশিষ্ট সদস্য, নাগরিক ফোরামের বিশিষ্ট সদস্যরা এতে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী এবং এফএসডিএস’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন, তরুণরা তথা ৪ কোটি ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন, এটাই আনন্দের বিষয়। নির্বাচনে জয় পরাজয়ের বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অস্বাভাবিক জয় স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রের সূচনা হবে। দেশে গণতন্ত্রেরর কবর রচনা হয়েছিল। তার ফলশ্রুতিতেই দেশে অভ্যুত্থান ঘটে।
মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, জনগণ এই নির্বাচনে ভোট দিতে উজ্জীবিত। তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেননি। তাই তো দেশে জনগণ ভোট উৎসবে মেতে উঠেছেন।
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ বলেন, আশা করি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। তবে দু:চিন্তাও কম নয়। কারণ এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভালো নির্বাচন যতটুকু হওয়ার তাতে মনে হয় ৬০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। নতুন যে সরকার আসবে সেই সরকার স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের প্রতি আপোষহীন থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন এই অর্থনীতিবিদ।
ঢাকা বিশ^বিদ্যায়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো এবং সেক্রেটারি জেনারেল ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর ড. ইশরাফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে রাখেন সাবেক সচিব আবদুর রশিদ, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মাজারুল হক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ, লেখক ইনামুল হক চৌধুরী, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আশরাফুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

Qazi mostafa kamal
৩ মাস আগেবাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা সার্বভৌম ত্তের ব্যপারে কখনও আপোষ করেনি ,ভবিষ্যতেও করবেনা