মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না। তিনি এ দায়িত্বে আসার পর এ পর্যন্ত কোনো টেলিভিশনে উপস্থিত বা ভিডিও বার্তা দেননি। তবে তার দপ্তর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি হয়তো মারা গেছেন। আবার যদি জীবিত থাকেন, তাহলে তাকে ধরিয়ে দিতে বা তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণাও করেছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ‘কোনো সমস্যা নেই’। তিনি ভাল আছেন। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে, তার পিতা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ওই বিমান হামলায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যও নিহত হন বলে জানা গেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে স্বীকার করেন যে, তিনি আহত হয়েছেন। তবে তার আঘাতের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একটি সংবাদ চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। তিনি এরই মধ্যে তার বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তিনি তার দায়িত্ব পালন করবেন।’
শনিবার ট্রাম্প বলেন, তিনি নিশ্চিত নন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনও জীবিত আছেন কি না। তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমি জানি না তিনি আদৌ জীবিত কি না। এ পর্যন্ত কেউ তাকে দেখাতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুনছি তিনি জীবিত নন। আর যদি তিনি বেঁচে থাকেন, তাহলে তার দেশের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে আত্মসমর্পণ করা।’ তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তার মৃত্যুর খবর এখনো কেবল ‘গুজব’। এর আগে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা খামেনি হয়তো জীবিত আছেন, কিন্তু গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তার ভাষায়, আমার মনে হয় তিনি সম্ভবত জীবিত। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত- কোনো না কোনোভাবে।
একদিন পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, তার বিশ্বাস খামেনি আহত এবং সম্ভবত বিকৃত অবস্থায় আছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি এই তথাকথিত নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত এবং সম্ভবত বিকৃত।’
তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মোজতবা খামেনি তার প্রথম বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর নিহতদের প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করা এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই প্রতিশোধের একটি সীমিত অংশ ইতিমধ্যে বাস্তব রূপ পেয়েছে। তবে তা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এটি আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শত্রুর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করব। তারা যদি তা দিতে অস্বীকার করে, তাহলে আমরা তাদের সম্পদের সমপরিমাণ নিয়ে নেব, আর তা সম্ভব না হলে সমপরিমাণ সম্পদ ধ্বংস করে দেব।’ খামেনি আরও ঘোষণা দেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বজায় থাকবে। পাশাপাশি তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ না করলে সেগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
