২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন যাত্রায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ঘরের মাঠে বছরের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগাররা দেখায় দাপুটে নৈপুণ্য। সফরকারীদের ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় টাইগাররা। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। বৃষ্টি বাগড়ার ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১২৮ রানে হারে বাংলাদেশ। সিরিজে আসে ১-১ সমতা। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটিকে ‘অলিখিত ফাইনাল’ বলা চলে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। খেলা শুরু দুপুর সোয়া ২টায়। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের উন্নতি করার সুযোগও।
২০২৭ সালের ৩১শে মার্চ তারিখের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা দলগুলো। সেরা ৮ দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। সেই সমীকরণ থেকে আপাতত দুই ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। বর্তমানে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের দশে আছে টাইগাররা। ৯ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট এখন ৭৭। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে ক্যারিবিয়ানদের টপকে ৯ নম্বরে উঠে আসবে বাংলাদেশ। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৭৯। আর বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে গেলে রেটিং পয়েন্ট হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমান ৭৭। তবে ভগ্নাংশের ব্যবধানে পিছিয়ে দশেই থাকবে টাইগাররা। আর সিরিজ জিতেও রেটিং পয়েন্ট হারাবে পাকিস্তান। ১০৫ থেকে কমে তাদের পয়েন্ট হবে ১০৪। ২-১ ব্যবধানে হেরে গেলে পাকিস্তানের রেটিং পয়েন্ট হবে ১০২। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজে লিটন কুমার দাসকে মিডল অর্ডারে (পাঁচ নম্বরে) খেলানোর নতুন কৌশল নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের মতে, সাকিব-রিয়াদের অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে একজন অভিজ্ঞ ‘অ্যাঙ্কর’ প্রয়োজন। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে লিটন ৩৩ বলে ৪১ রান করে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছেন। তবে টাইগারদের যত চিন্তা ওপেনিং জুটিকে ঘিরে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সমাধানের চেষ্টাও চলেছে। গত দুই বছরে ওপেনিংয়ে অন্তত ১০টি জুটি খেলানো হয়েছে। কোনো জুটি ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারকে বসিয়ে রাখা হয়।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অবশ্য ফিল্ডিংয়ে নেমেছিলেন। সেই সৌম্য পাঁচ মাস আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাকে বসিয়ে রেখে ওপেনিং দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা টিম ম্যানেজম্যান্ট করেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে। অথচ গেল অক্টোবরে এই মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাইফ-সৌম্যের ওপেনিং জুটিতে ১৭৬ রান তুলে বাংলাদেশ। সাইফের ৮০ রানের পাশাপাশি ৯১ রান করেন সৌম্য। আগের ম্যাচেও এ বাঁহাতি ব্যাটার খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস। সাইফ-সৌম্যর এই জুটি যখন ভরসা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই সিরিজে ওপেনিং জুটি নিয়ে ফের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলো টিম ম্যানেজমেন্ট। যাকে নিয়ে পরীক্ষা করা হলো সেই তানজিদ হাসান তামিম প্রায় তিন বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩০ ম্যাচে করেছেন ৬২৬ রান। গড় ২২.৩৫, স্ট্রাইকরেট ১০২-এর কাছাকাছি! আধুনিক ওডিআইতে কোনো ওপেনারের এই রেকর্ড মোটেই মানানসই নয়। তিনি ক্যারিয়ারে যে পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি করেছেন, তার কোনোটিতে ম্যাচসেরা হননি। চাপের ম্যাচে টাইগারদের জেতাতে পারেননি। বড় ম্যাচে কিংবা বড় মঞ্চে কখনও সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তানজিদ।
পরিসংখ্যান বলছে, বড় লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ তামিমের পারফরম্যান্স মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। ২৫০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে ছয়টি ম্যাচে সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি এই ওপেনার। এই ছয় ইনিংসে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ মাত্র ১৭ রান। বাকি পাঁচ ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ১৫, ১২, ৯, ১ এবং ১ রানের নগণ্য ইনিংস। ওপেনিংয়ে এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা বাংলাদেশকে শুরুতেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে। এ বাস্তবতায় আজ সৌম্য সরকারকে ফেরাতে পারে টিম ম্যানেজম্যান্ট। মিডল অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং তাওহিদ হৃদয়কে নিতে হবে বড় দায়িত্ব। প্রথম ম্যাচে পেসাররা দারুণ বোলিং করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে খরুচে ছিলেন। মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে উদ্যমে ফেরার চ্যালেঞ্জ থাকছে। ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।
