মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবারের ম্যাচের উত্তাপ ছড়ায় বহুদূর। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় ছাপিয়ে এখন টক অব দ্য টাউন সালমান আলী আগার সেই রানআউট, এবং মাঠের ভেতর তার মারমুখী আচরণ। ক্রিকেটীয় সরঞ্জামের অবমাননা করার দায়ে গতকাল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে শাস্তির খড়গ নেমে আসে পাকিস্তান ব্যাটারের ওপর। রানআউটের ঘটনায় অনেকেই কাঠগড়ায় তুলছেন মেহেদী হাসান মিরাজকে। তবে দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের মতে, টাইগার অধিনায়কের কোনো ভুল ছিলো না। টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭৪ রান তোলে পাকিস্তান। রান তাড়ায় বৃষ্টির আগমনে ৩২ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩। ২৩.৩ ওভারে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় মিরাজরা। তবে পাকিস্তানের ডিএলএস মেথডে এই ১১৪ রানের জয় ছাপিয়ে আলোচনায় সালমানের করা মিরাজের রানআউটটি। ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মিরাজের চতুর্থ বলে সামনের দিকে পুশ করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
বলটি মিরাজ পা দিয়ে থামান। তখন নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা সালমান ক্রিজের বেশ বাইরে ছিলেন। নিজেই বলটি মিরাজকে দিতে যখন তিনি ঝুঁকলেন, ততক্ষণে সেটি লুফে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। রিভিউয়ে থার্ড আম্পায়ারের লাল বাতি জ্বলতেই মেজাজ হারান সালমান। মাঠের মধ্যেই নিজের হেলমেট ও গ্লাভস ছুড়ে মারেন তিনি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথেও তার রাগের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট ছিলো। এমনকি মাঠ ছাড়ার সময় টাইগার ফিল্ডারদের সঙ্গেও তাকে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদের কাছে সালমানের এমন আচরণ ছিল সরাসরি কোড অব কন্ডাক্ট লঙ্ঘন। ‘অ্যাবিউজিং অব ক্রিকেট ইকুইপমেন্ট’ বা ক্রিকেট সরঞ্জামের অবমাননার দায়ে তাকে তিরস্কার করা হয়েছে এবং নামের পাশে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। পাকিস্তান ব্যাটার নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। এ ঘটনায় যখন পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেই অনেক কিছু বলছেন, তখন শিষ্যের পাশেই দাঁড়ালেন বাংলাদেশের স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটাররা যখন মিরাজকে ক্রিকেটীয় চেতনা ভঙ্গের দায়ে কাঠগড়ায় তুলছেন, পাকিস্তানের এই সাবেক ক্রিকেটারের ভাষায়, মিরাজ ভুল কিছু করেননি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মিরাজ খেলাটার ভেতরে এতটাই মগ্ন হয়ে ছিল যে, সে শুধু রানআউটের সুযোগটা দেখেছে। আগা হয়তো ভেবেছিল বল ডেড হয়ে গেছে, তবে নিয়মানুযায়ী বল তখনো প্লে-তে ছিল। এখানে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। স্রেফ পরিস্থিতির তাড়নায় মিরাজ সহজাত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মুশতাক আরও বলেন, ‘সে নিজেও হয়তো নিশ্চিত ছিল না যে, কী করছে... খেলার ভেতর একদম ডুবে ছিল। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না মিরাজ ভুল করেছে।’ সালমানের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুশতাক বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই সে হতাশ ছিল। ভেবেছিল, বল তুলে সে মিরাজকে সাহায্য করবে। যথেষ্ট ন্যায্য। তবে সে নিশ্চিত ছিল না যে, ক্রিজ থেকে কতটা দূরে ছিল। আগে যেমন বলেছি, দুই পক্ষই চেষ্টা করেছে ভালো হতে।’

zahid
২ মাস আগেsalman was decent and simple for sportsmanship, but Mizaj showing fully professional and indecent too.