এ বছরই আসছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

এ বছরই আসছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম চলতি বছরেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। ওয়াকিবহাল একাধিক কূটনৈতিক সূত্র মানবজমিনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরে ঢাকায় আসতে পারেন তিনি। তার সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফর। আনোয়ার ইব্রাহিম সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। ২০২৪ সালের ৪ঠা অক্টোবর তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে দু’দিনের সফরে ঢাকায় আসেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গত জুনে মালয়েশিয়া সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১শে জুন দু’দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যান তিনি। সফরে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। সফরকালে আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। ওই আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতেই দুই দেশের মধ্যে তার ঢাকা সফর নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। শিগগিরই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে গত ৩রা নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার সেন্ট জনসে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে (চোগাম) বাংলাদেশ থেকে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্মেলনের সাইডলাইনে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি উতামা হাজী মোহাম্মাদ বিন হাজী হাসানের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। সেখানে তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আনোয়ার ইব্রাহিম শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।

শ্রমবাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর দুই দেশের: তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে যৌথ কর্মদল গঠন এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয় দুই পক্ষ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ থেকে ২৯শে অক্টোবর ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে এফটিএ নিয়ে প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা। দুই দেশের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করা।

এ ছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, জ্বালানি অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা সমপ্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে দুই পক্ষ। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টিও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আনোয়ার ইব্রাহিমের সম্ভাব্য ঢাকা সফরে এসব বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।