ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল ও সড়কপথ অবরোধে বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রাম-সিলেট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেল ও সড়কপথ অবরোধে বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রাম-সিলেট

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাসুদেব ইউনিয়নের বরিশল গ্রামকে ইউনিয়ন করার পর উপজেলা করার পদক্ষেপে ফুঁসে উঠেছেন ৫ ইউনিয়নের মানুষ। রোববার সকালে রেল ও সড়ক পথ অবরোধ করে এই তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাসুদেব ইউনিয়নের কয়েক গ্রামের মানুষ। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সাড়ে ৫ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। দুর্ভোগে পড়েন কয়েকটি ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রী। গত মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে বরিশল নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।

জেলা বিএনপি’র সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার প্রস্তাবনায় নতুন এই ইউনিয়ন গঠিত হয়। তিনি বরিশল গ্রামের বাসিন্দা। বরিশলসহ বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে চান্দি, কোড্ডা, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, বৈষ্ণবপুর গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে বরিশল ইউনিয়ন করা নিয়ে আন্দোলন-অসন্তোষের রেষ কাটতে না কাটতেই সদর ও বিজয়নগর উপজেলার ৪ ইউনিয়ন রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব এবং সিঙ্গারবিল ইউনিয়নকে বরিশলের সঙ্গে মিলিয়ে বরিশল উপজেলা করার সরকারি চিঠি প্রকাশের পর নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। আন্দোলন শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ৬টায় অবরোধ করা হয় সুলতানপুর আখাউড়া স্থলবন্দর সড়ক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রেলপথ। রেলপথ ও রাস্তায় আগুন দিয়ে, রেলপথে গাছের টুকরো ফেলে বিক্ষোভ করতে থাকে আন্দোলনকারীরা। বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সেখানে এসে আন্দোলনকারীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বসে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করতে বলেন। পরে সড়ক ও রেলপথ থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিয়ে আন্দোলনের নেতারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রওনা হন। তবে আগামী তিনদিনের মধ্যে দাবি মানা না হলে আবারো অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম নয়ন বলেন, তিনদিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আমাদের একটি দল জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। আমাদের দাবি মানা না হলে আবারো অবরোধ কর্মসূচি চলবে। জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এদিকে রেলপথ অবরোধের কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী অন্তত ৭টি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রেলপথ থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ডিসি’র সঙ্গে বৈঠক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নতুন বরিশল ইউনিয়ন ও উপজেলা গঠনের প্রতিবাদে সাড়ে ৫ ঘণ্টা রেল-সড়ক অবরোধের পর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে এ বৈঠক চলে। এতে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ ছাড়াও সেখানে সদর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এহসান মুরাদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে আন্দোলনের নেতাদের কয়েকজন তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরে সিদ্ধান্ত হয় বরিশল ইউনিয়নে যে ৪ গ্রামের লোকজন থাকতে চায় না তারা আজ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দেবেন। সেটি জেলা প্রশাসক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন। নতুন উপজেলার বিষয়টি স্থগিত আছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সংসদ সদস্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ৬টি গ্রাম নিয়ে বরিশাল ইউনিয়ন করা হয়। এর একটি গেজেট নোটিফিকেশনও হয়েছে। কিন্তু ৪ গ্রামের মানুষ এই ইউনিয়নে থাকতে চায় না বলে আন্দোলন করছে। এনিয়ে আমরা ডিসি’র সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন এখন বাস্তব অবস্থাটা বুঝতে পেরেছে। ৪ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন দেয়া হবে। তাদের দাবির সঙ্গে জেলা বিএনপি একমত। আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাবো।