বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘লাইফস্টাইল’ ক্রুজ বা প্রমোদতরি যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের বিশাল জাহাজ ‘ওয়ান্ডার অব দ্য সিস’ এই যাত্রার জন্য প্রস্তুত। ব্লিস ক্রুজ নামের একটি চার্টার কোম্পানি প্রাপ্তবয়স্কদের এই ভ্রমণের আয়োজন করেছে। মিয়ামি থেকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে এই যাত্রা শুরু হবে। এখানে যাত্রীদের জন্য নগ্নতা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ‘প্লে-রুম’সহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। খবর অনলাইন সিএনএন।
৯ নভেম্বর পোর্ট মিয়ামি থেকে সাত রাতের এই যাত্রা শুরু হবে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই এই ক্রুজের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এই জাহাজে ৫ হাজার ৮০২ জন নিবন্ধিত যাত্রী থাকবেন, যাদের সবার বয়স ২১ বছরের বেশি। যাত্রীদের প্রায় ৮৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এছাড়া বিশ্বের আরও ৪৬টি দেশের যাত্রীরা এতে অংশ নিবেন। এখানে প্রতিদিন রাতের জন্য আলাদা থিমের আয়োজন থাকবে। এর মধ্যে গ্লো পার্টি, এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড, স্টিমপাঙ্ক এবং ফেটিশ নাইটের মতো আকর্ষণীয় থিম রয়েছে। ব্লিস ক্রুজের প্রধান নির্বাহী রাসেল স্টিফেনস জানান, তারা পুরো জাহাজটি ভাড়া করেছেন। এটি মূলত মুক্তমনা দম্পতিদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাধাহীন পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে।
এই ক্রুজের কেবিনের ভাড়া জনপ্রতি ১ হাজার ৬৩০ ডলার বা ২ লাখ ২ হাজার ৮৭ টাকা থেকে শুরু করে ২১ হাজার ডলার বা ২৬ লাখ ৩ হাজার ৫৮০ টাকা পর্যন্ত। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ব্লিস ক্রুজের নিজস্ব অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন। জাহাজের ভেতরে ৩৫ হাজার বর্গফুটের সোলারিয়াম এবং কনফারেন্স সেন্টারকে ‘অ্যাডাল্ট লাইফস্টাইল প্লে-রুম’ হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতির ভিত্তিতে নগ্নতা এবং শারীরিক সম্পর্কের অনুমতি রয়েছে। জাহাজের একটি কমেডি ক্লাবকে ‘দ্য ডাঞ্জিওন’ হিসেবে সাজানো হয়েছে। তবে এই অবাধ স্বাধীনতার পাশাপাশি ক্রুজে অত্যন্ত কঠোর নিয়মও মেনে চলতে হয়।
যাত্রার আগে প্রতিটি যাত্রীকে একটি আচরণবিধি ও সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে, কারও ‘না’ মানেই ‘না’। নগ্নতা শুধুমাত্র নির্ধারিত এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। জাহাজে কোনো ধরনের পতিতাবৃত্তি এবং অবৈধ মাদকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া জাহাজের ক্রুদের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্কে জড়ানো যাত্রীদের জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। রাসেল স্টিফেনস জানান, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে পরবর্তী বন্দরেই জাহাজ থেকে নামিয়ে দেয়া হবে। যাত্রীদের পাশাপাশি জাহাজের ক্রুদের জন্যও বিশেষ সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেন তারা এই ভিন্নধর্মী যাত্রার সাথে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন।
