মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানরা হোয়াইট হাউস ধরে রাখলেও কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্রেটরা। এই বিভক্ত সরকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সাংবিধানিক ক্ষমতার ভারসাম্য, কংগ্রেসের নজরদারি ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তবে কংগ্রেসে ডেমোক্রেটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অর্থ পররাষ্ট্রনীতিতে স্বয়ংক্রিয় পরিবর্তন নয়। কূটনীতি, সামরিক অভিযান, নির্বাহী সিদ্ধান্ত ও বাণিজ্যনীতিতে ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা বহাল থাকবে। অন্যদিকে কংগ্রেসের কমিটি, বাজেট বরাদ্দ, তদন্ত, আইন প্রণয়ন এবং সিনেটের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষমতার মাধ্যমে ডেমোক্রেটরা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবেন। তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গুলোকে সরাসরি বাতিল না করে সেগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখা।
নির্বাচনটি পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক উদ্বেগের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কও তুলে ধরেছে। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, শুল্ক এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোকে সরাসরি ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ফ্রম্যান ৬ নভেম্বর মন্তব্য করেন, পররাষ্ট্রনীতি ক্রমেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।
সাংবিধানিক ভারসাম্য
২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ডেমোক্রেটদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের কমিটিগুলো প্রশাসনের নীতিমালা তদন্ত, কর্মকর্তাদের তলব, গোপনীয় ব্রিফিং চাওয়া, প্রতিরক্ষা ব্যয় পর্যালোচনা এবং সমন জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি ক্ষমতা পাবে। পররাষ্ট্রবিষয়ক, সশস্ত্র বাহিনী, গোয়েন্দা ও বরাদ্দবিষয়ক কমিটিগুলো নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান কংগ্রেসকে ফেডারেল ব্যয়, বৈদেশিক বাণিজ্য, সামরিক বরাদ্দ, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে কর্তৃত্ব দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ অনুমোদন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির বিষয়ে পরামর্শ ও সম্মতি দেওয়ার ক্ষমতাও সিনেটের রয়েছে।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ট্রাম্পের প্রেসিডেনশিয়াল ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে, যা অতিক্রম করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। সাধারণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সিনেটে বিতর্ক বন্ধ করতে সাধারণত ৬০টি ভোট প্রয়োজন হয়, যা ফিলিবাস্টার নামে পরিচিত। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসে ডেমোক্রেটদের রিপাবলিকানদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নজরদারি, তদন্ত, আলোচনা এবং বাজেট বরাদ্দের ওপর নিয়ন্ত্রণই হবে তাদের প্রধান প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার।
ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধ কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে তাৎক্ষণিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ডেমোক্রেটরা সামরিক অভিযানের লক্ষ্য, পরিচালন ব্যয়, গোয়েন্দা মূল্যায়ন, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাবি করতে পারেন।
১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। একই সঙ্গে আইনে নির্ধারিত ব্যতিক্রম এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ৩০ দিনের প্রত্যাহার-সময়সীমা সাপেক্ষে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান সাধারণত ৬০ দিনের বেশি চালানোর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। তবে আইনটির সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
ডেমোক্রেটরা সামরিক অভিযান সীমিত করা কিংবা প্রতিরক্ষা বরাদ্দের সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন করে তুলবে। তাদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে—সাংবিধানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্কিন সেনাসদস্যদের নিরাপত্তা, কূটনৈতিক যোগাযোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়গুলো সমুন্নত রাখা।
ইউক্রেন, রাশিয়া ও আটলান্টিকপারের সম্পর্ক
কংগ্রেসে ডেমোক্রেটদের নেতৃত্ব ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য অতিরিক্ত আশ্বাস তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সামরিক সহায়তা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং মস্কোর সঙ্গে আলোচনার ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে। তবে এর অর্থ ইউরোপ বিষয়ে মার্কিন নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হওয়া নয়।
কূটনৈতিক আলোচনা ও নির্বাহী পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য কর্তৃত্ব থাকবে। প্রশাসন যদি রাশিয়ার সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নেয়, যা ইউক্রেন বা ইউরোপীয় সরকারগুলোর কাছে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, তাহলে ডেমোক্রেটদের পক্ষে তা ঠেকানো কঠিন হতে পারে।
ন্যাটোর বিশ্বাসযোগ্যতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে থাকবে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৭৬ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইউরোপে মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা দিতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে আইন প্রণয়ন, অর্থায়ন এবং দ্বিদলীয় সমর্থনের ওপর।
শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
বাণিজ্যনীতি কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে আরেকটি বড় বিরোধের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের নীতি বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং আমদানিকৃত পণ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলেও প্রশাসনের শুল্কনীতি সহজে উল্টে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ বিদ্যমান বাণিজ্য আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টকে কিছু ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। সেই ক্ষমতায় বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আনতে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হতে পারে, যা ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন।
তবে ডেমোক্রেটরা শুল্কের প্রভাব তদন্ত, প্রশাসনের অর্পিত ক্ষমতার ব্যবহার পর্যালোচনা এবং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট আইনি শর্ত নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে পারেন। সরকারি ব্যয় নিয়ে আলোচনা এবং ঋণসীমা-সংক্রান্ত দর-কষাকষিও ডেমোক্রেটদের অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিতে পারে।
গঠনমূলক বাণিজ্যনীতির জন্য কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং ব্যাপক সংরক্ষণবাদী নীতির মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষা এবং অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু নির্বিচারে শুল্ক আরোপ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়াতে এবং মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দুর্বল করতে পারে।
বৈদেশিক সহায়তা ও কংগ্রেসের নজরদারি পুনঃপ্রতিষ্ঠা
ইউএসএআইডি বিলুপ্ত করা, মানবিক সহায়তা পুনর্গঠন এবং কংগ্রেসের অনুমোদিত বৈদেশিক সহায়তার অর্থ আটকে রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগের ব্যয়সংক্রান্ত কর্তৃত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
কংগ্রেস অনুমোদিত অর্থ আটকে রাখা বা অন্য খাতে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসন তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে কি না, তা ডেমোক্রেটরা তদন্ত করতে পারেন। ১৯৭৪ সালের ইমপাউন্ডমেন্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত বরাদ্দের অর্থ প্রেসিডেন্টের আটকে রাখার প্রচেষ্টা নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো প্রদান করে।
বৈদেশিক সহায়তাকে শুধু সরকারি ব্যয় হিসেবে নয়, বরং মার্কিন কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি উপকরণ হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। এর কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মার্কিন জাতীয় স্বার্থকে সমন্বিত করে একটি টেকসই কৌশল প্রণয়ন করতে পারে নয়া কংগ্রেস।
ইসরায়েল, গাজা ও আঞ্চলিক কূটনীতি
ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি কংগ্রেসের আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে। ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা সামরিক সহায়তা, অস্ত্র সরবরাহ, প্রযোজ্য মার্কিন আইনি বাধ্যবাধকতা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনায় ইরান, গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, সিরিয়া এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। তবে শুধু শুনানি বা আইন প্রণয়নের উদ্যোগে মার্কিন নীতির মৌলিক পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা কম। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে থাকবে।
তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক সহায়তার সঙ্গে শর্ত যুক্ত করা, নীতিগত বিতর্ক বাড়ানো এবং আরও সুসংগত কূটনৈতিক কৌশলের জন্য কংগ্রেসের চাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন অংশীদার দেশগুলো শুল্কনীতি, নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ডেমোক্রেটরা আঞ্চলিক জোট, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, তাইওয়ান, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা পর্যালোচনায় কংগ্রেসের নজরদারি ব্যবহার করতে পারেন।
তবে কংগ্রেসের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যাবে না। এ অঞ্চলে টেকসই সম্পৃক্ততার জন্য দ্বিদলীয় ঐকমত্য রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল এমন এক ভূরাজনৈতিক পরিবেশে অবস্থান করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং উন্নয়ন সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়ে সম্পৃক্ততার অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্বাহী পর্যায়ের কূটনীতিতে জটিলতা দেখা দিলেও কংগ্রেসের কমিটি ও স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতারা আঞ্চলিক সরকার এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন।
বাংলাদেশের জন্য এটি হোয়াইট হাউসের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তৃত করার এবং উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার সুযোগ তৈরি করবে। তবে কংগ্রেসের আগ্রহ মানেই মার্কিন নীতির পরিবর্তন নয়। ওয়াশিংটন, বেইজিং ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ঢাকাকে ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিশ্বাসযোগ্য অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত বিভক্ত সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাত অতিক্রম করে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দ্বিদলীয় সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে কি না, তার ওপর। মার্কিন বৈশ্বিক নেতৃত্বের জন্য প্রেসিডেন্টের অবাধ ক্ষমতা কিংবা কংগ্রেসের বাধা সৃষ্টি -এর কোনোটিই প্রয়োজন নেই ; বরং এমন এক সাংবিধানিক ভারসাম্য প্রয়োজন, যা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আমেরিকার জনগণের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রাধিকারকে সমন্বিত করে।
