প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন মানুষের ধর্ম, বর্ণ, সামাজিক পরিচয় কিংবা জন্মস্থান তার সুযোগ ও সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করবে না। রাষ্ট্রের উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতে হবে প্রতিটি নাগরিকের কাছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছেন।’
নড়াইলের আলোকপুর ও এগারোখান গ্রামে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে সংরক্ষণের পাশাপাশি এগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, তরুণ ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’
‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিকাশকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে’—উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত সাংস্কৃতিক শক্তি নিহিত রয়েছে দেশের গ্রাম, নদী, লোকসংগীত, লোকশিল্প এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারার মধ্যে। মতুয়া সম্প্রদায়ের মতো ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার শিকার জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
মতুয়া সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সমাজের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো একটি ধর্ম, বর্ণ বা শ্রেণির মানুষের দেশ নয়। বাংলাদেশ আমাদের সবার। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এবং সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠী সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। কাউকে পিছনে ফেলে রেখে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি না।’
স্থানীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহাঙ্গীর, সংসদ সদস্য হাবিবা মাহমুদা, সংসদ সদস্য আরলি এবং সংসদ সদস্য ফারহানা হক।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা, মতুয়া সম্প্রদায়ের নারীদের অংশগ্রহণে নৌকাবাইচ, নৌকায় সারিগান ও লোকনৃত্য, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত, নৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
